ঝিনাইদহ সদর সহ ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ জেলা। তন্মধ্যে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অন্যতম। পাশ্ববর্তী বৃহত্তর যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার কিছু অংশ চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর ও সদর উপজেলার কিছু অংশের রোগী নিকটতম চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে জরুরী অবস্থায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এছাড়াও কালিগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশের রোগী নিকটতম হিসেবে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
৩ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ জনবহুল এলাকা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে।
চিকিৎসা সেবা নিয়ে জনমনে বিরুপ মন্তব্য সৃষ্টি হয়েছে। নেই তেমন মেডিকেল অফিসার এমবিবিএস চিকিৎসক। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) দিয়েই চলছে বহির্বিভাগের সকল চিকিৎসাসেবা।
(২৫ শে এপ্রিল) রবিবার ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১টা বহির্বিভাগে কক্ষগুলোর সামনে দেখা যায় অনেক লম্বা লাইন। চিকিৎসা সেবা নিতে এসেছেন দুর দুরান্তের শিশু-বৃদ্ধ সহ সব বয়সের রোগী। কোনো এমবিবিএস মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক নেই। চারটি কক্ষে সেবা দিচ্ছেন চারজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো)। পাশেই জরুরী বিভাগ সেখানেও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন গোলাম মাহবুব নামে আরেকজন স্যাকমো।
অনলাইন কলে মিলছে এমবিবিএস মেডিকেল অফিসারের চিকিৎসা সেবা। দ্রুত এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীসহ তাদের স্বজনরা।
জানা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৬ জন নিয়োগপ্রাপ্ত ৩ জন আনাড়ি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার(স্যাকমো)কর্মরত আছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ জন (স্যাকমো) সেলিম আক্তার,গোলাম মাহবুব,সুমাইয়া খাতুন, শাহানাজ বেগম,দীপক কুমার পাল, সাকিল মেহেদি ও আনাড়ি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ,আজিজুল হাকিম,মাহফুজ আলম।
এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক সংকট থাকায় উপজেলার দুইটি সাব-সেন্টার থেকে চিকিৎসক নিয়ে এসে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে রোগীদের। সেটাও মেলে অনলাইন কলে – এমনটাই জানিয়েছেন রোগী ও রোগীর স্বজনরা।
এবিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত স্যাকমো সাকিল মেহেদী বলেন,আগে এমবিবিএস চিকিৎসক মেডিকেল অফিসারদের সঙ্গে আমরা ডিউটি করতাম।এখন সার্বক্ষণিক ভাবে আমরাই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি রোগীদের। চিকিৎসার বিষয়ে কোন জটিলতা দেখা দিলে তখন ডাক দেয়া হয়।
আরও জানান,চিকিৎসক সংকট থাকায় স্যারেরা মূলত অন কলে থাকেন। প্রয়োজনে ফোন করলেই স্যারেরা কালবিলম্ব না করে চলে আসেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তানভীর জামান(প্রতীক) তিনি জানান সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ২৪ ঘন্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। মূলত আমরা অন কলে ডিউটি করছি। এছাড়াও প্রতিদিনের রাউন্ড দিতে হয়।
আরও জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কাজ না। রয়েছে মেডিকেল সার্টিফিকেট লেখা, মিটিং,ট্রেনিং সহ অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ।
চিকিৎসা সেবার বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে। এরপরও দৃশ্যমান কোন সমাধান দেখছি না। এভাবে ডিউটি করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তারপরও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যেতে হচ্ছে। একারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে সৃষ্টি হচ্ছে মনোমালিন্য।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যেত ভালো। এখন আর তেমন চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
স্হানীয়রা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নিয়ে জানান প্রায় ৩ বছর হয়ে গেল নতুন ভবন উদ্বোধন হয়েছে জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বিল্ডিংয়ে কোন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় প্রায় চুরি হচ্ছে ভবনের বিভিন্ন মালামাল।
নষ্ট হতে চলেছে মূল্যবান সরঞ্জাম।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ-আল-মামুন বলেন,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আপাতত কোন চিকিৎসক নাই। এ উপজেলার সাব-সেন্টার থেকে দুই জন চিকিৎসককে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে দিয়ে মূলত চিকিৎসা সেবা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আশে পাশের ৫ উপজেলার মাঝে অবস্থিত।
এ কারনে ওই সব উপজেলা থেকে প্রতিনিয়ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। যার কারণে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে।
তিনি আরো বলেন,প্রতিনিয়ত আউটডোরে ১ হাজার থেকে ১২শ রোগী চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সংখ্যা অনেক সময় ১২ থেকে ১৫ শ হয় বলে জানান। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকেন ১শ থেকে ১২০শ জন করে।
তবে খুব দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে দাবি করেন তিনি। কারন হিসেবে তিনি বলেন,কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একটু আলাদা। অন্য কোথাও ডাক্তার না পেলেও এখানে ১/২ জন চিকিৎসক আমরা পাব বলে বিশ্বাস করি।
পাপন চৌধুরী ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ,সোমবার ২৬ মে এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















