বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পা রেখেছে এবং এখন একটি পরিণত রাষ্ট্রে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে গুণগত ও দায়িত্বশীল রাজনীতি প্রত্যাশা করে দেশের জনগণ। সেজন্যেই জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করতে চায় বিএনপি।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে ছাত্রদলের আয়োজিত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণই বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত উৎস।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের শত শত নেতা-কর্মী আহত ও গ্রেপ্তার হন। শুধুমাত্র ওই সময়েই ছাত্রদলের দুই হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, তোমাদের মতো সাহসী সন্তানরা যেখানে আছে, সেই সংগঠনকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এখন কথামালার রাজনীতি নয়, বরং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।তারেক রহমান বলেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন। এমনকি পলাতক স্বৈরাচার নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে তাদের দমন করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদ যেন আবার ফিরতে না পারে, সেজন্য ছাত্রসমাজকে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে ফ্যাসিস্ট চক্র দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পরিবর্তে ক্যাম্পাসগুলোকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করা হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পাসগুলোকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রূপান্তর করা হয়েছিল।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার-মুক্ত বাংলাদেশে প্রচলিত ছাত্র রাজনীতির গুণগত মান পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি প্রতিটি ক্যাম্পাসে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর সচেতন থাকতে হবে এবং নিজেদের যোগ্যতম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বের একাধিক ভাষা শেখার ওপর জোর দিতে চান বলে জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বলেন, বিএনপি তরুণ প্রজন্মের সামনে একাধিক ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করে দিতে চায়। বর্তমানে স্কুল-কলেজগুলোতে বাংলা ও ইংরেজি শেখার সুযোগ রয়েছে। তবে ইংরেজিতে আলাদাভাবে জোর দিতে চায়। পাশাপাশি কিছু কিছু ভাষা—যেমন আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, ফরাসি, জাপানিস—রাখা হবে। এসব ভাষা জানা থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পৃথিবীর যেখানে যাক না কেন, সেই দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে।
ঢাকা,রোববার ০৩ আগষ্ট এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















