উপজেলায় সেচ এলাকা থেকে পল্লী বিদ্যূতের ট্রান্সফরমার , সেচ পাম্পের সংযোগের তাঁর ও সেচ পাম্প চরির ঘটনা বেড়েই চলছে। গত ১৫ মাসে ১৯ টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনী পুলিশ। ইরি বোরো আবাদ মৌসুমে এমন চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।
বৃহস্পতিবার দুই কৃষকের সেচ পাম্পের ৫৭০ গজ তাঁর ও সেচ পাম্প চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। কৃষকরা বিষয়টি পুলিশকে অবগত না করে নিজেরাই চুরি যাওয়া তাঁর ও সেচ পাম্পের খোঁজ করতে থাকে।
সর্বশেষ বুধবার রাত দশটার দিকে উপজেলা মোড়ের মেসার্স সততা ইলেকট্রিকে চুরি যাওয়া তাঁর দেখতে পেয়ে কৃষকরা তাঁর উদ্ধারের জন্য পুশিলকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চুরি যাওয়া ৫৭০ গজ তাঁর উদ্ধারসহ ওই দোকানের মালিক চোরের হোতা আলি হোসেনকে থানায় নিয়ে আসে। পরে আলী হোসেনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুটিমারী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ী গ্রামের শাহাজাহান মিয়ার ছেলে লায়ন মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে অজ্ঞাত কারনে গভীর রাতে পুলিশ চোরের হোতা আলী হোসেনকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পল্লী বিদ্যুতের কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, গত ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৯ টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মুল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে কমপক্ষে একশ থেকে দুইশ কৃষকের সেচ দিতে সমস্যা হয়ে পরে। সেচ মৌসুমে কৃষকদের সেচপাম্প ও ট্রান্সফরমার চুরি হলে ওই জায়গায় নতুন করে ট্রান্সফরমার বসাতে গেলে কৃষকদের অনেক কষ্ট হয়। চুরি যাওয়া সেচ পাম্প ও ট্রান্সফরমার উদ্ধারে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কৃষকদের পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের লোকজন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ ও এজাহার দায়ের করলেও কোন ফল হয়না। শেষমেষ উপজেলা আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম ও আনারুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর চোরেরা কৃষকের হাজার হাজার গজ সেচ পাম্পের তাঁর চুরি করে নিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ দিয়ে কোন কাজ হয়না তাই নিজে নিজেই চুরি যাওয়া তাঁরের খোঁজ করতে থাকি। গত বুধবার রাতে কৌশলে উপজেলা মোড়ের সততা ইলেকট্রিক এ গিয়ে তাঁর কিনতে চাইলে দোকানদার আমাদের চুরি যাওয়া তারই আমাদের দেখান। আমরা আমাদের তাঁরগুলো চিনতে পাই। কারন আমরা ওই তাঁরগুলো কিছুদিন আগে ৩৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেছিলাম। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করি।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক তাঁর চুরির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। চোরের হোতা আলী হোসেনকে রাতেই ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার অধিক তদন্তের জন্য ও তাঁর বিরুদ্ধে বাদীর কোন ধরনের অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চুরি করা ও চুরি যাওয়া মাল ক্রয় করা দুটোই সমান অপরাধ কিনা প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে চাননি।
শাহজাহান সিরাজ,কিশোরগঞ্জ,(নীলফামারী) নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ
নীলফামারী,বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















