গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার হতে পলাতক
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী ফিরোজ র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক গ্রেফতার ॥
বাংলাদেশ আমার অহংকার এই স্লোগান নিয়ে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ,জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং বিভিন্ন আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের মাধ্যমে র্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
গত ০৬ আগস্ট বিকেলে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে থাকা বন্দিরা বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহের সময় বন্দিরা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারারক্ষীরা তাদের নিভৃত করার চেষ্টা করলে বন্দিরা কারারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়। চলমান দাঙ্গা-হাঙ্গামার এক পর্যায়ে বন্দিরা কারাগারের দক্ষিণ অংশের পেরিমিটার ওয়াল ভেঙ্গে গর্ত করতে থাকলে তা প্রতিহত করা হয়।
প্রতিহতকালীন সময়ে অন্য দিকে কারা অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক খুঁটি দেয়ালের উপরে ফেলে মই বানিয়ে পশ্চিম দিকের দেওয়াল টপকে বেলা ০১টা থেকে ০২টার মধ্যে ২০৩ জন বন্দি পালিয়ে যায় এবং বুলেট ইনজুরিতে ০৬ জন বন্দি মারা যায়। এই সংক্রান্তে জিএমপি, গাজীপুরে কোনাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। যাহা কোনাবাড়ী থানার মামলা নং-০৪, তারিখ-১৫/০৮/২০২৪ খ্রিঃ, জিআর নং-১৪০, তারিখ-১৫/০৮/২০২৪খ্রিঃ, ধারা-১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৫৩/২২৪/৪২৭/৩৩২/৩৩৩/ ৪৩৬/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার হতে পলাতক আসামীগণ দেশে বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে বিধায় তাদের গ্রেফতার করার জন্য র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অদ্য ০৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উপরে বর্ণিত মামলার আসামী ও কাশিমপুর কারাগার হতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত কয়েদী নং-৬০২০/এ ফিরোজ (৩৫), পিতা-নবী হোসেন, সাং-মিজমিজি দক্ষিণ বাতেন পাড়, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি এলাকায় সালেহা বেগম নামে ০১ জন নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী মোঃ বাদশা মিয়া বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-৪৩, তারিখ-২৪/০৯/২০০৬ইং। ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ভীতির সৃষ্টি করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ ইং তারিখে গ্রেফতারকৃত আসামী ফিরোজ ও তার সঙ্গীদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বাতেনপাড়ায় ভিকটিম সালেহা বেগম এর গৃহে প্রবেশ করে ভিকটিম ও তার দুই জন শিশু সন্তান শাওন ও স্বপ্নাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাথায়, গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন ভিকটিম ও সন্তানদের মূমুর্ষ অবস্থায় চিটাগাং রোড শুভেচ্ছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম সালেহা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার সন্তানদের অবস্থা আশঙ্খাজনক দেখে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আসামী ফিরোজ উক্ত হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন। গত ২০ এপ্রিল ২০১৪ খ্রিঃ তারিখ রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ১ম আদালতের বিচারক মামুন উর রশিদ উক্ত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে গ্রেফতারকৃত আসামী ফিরোজকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও অপর আসামী মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা জরিমানা আদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় গ্রেফতারকৃত আসামী ফিরোজ বিজ্ঞ আদালাতে অনুপস্থিত ছিল।
পরবর্তীতে গত ০২ জানুয়ারী ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ ভোরে র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল আসামী ফিরোজকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী ফিরোজকে ০২ জানুয়ারী ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার, নারায়ণগঞ্জ এবং পরবর্তীতে তাকে ২৭ জানুয়ারী ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুরে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ,বৃহস্পতিবার ০৩ অক্টোবর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















