ফুলবাড়ীতে বেগুন গাছের শেকড় পচে মরে যাচ্ছে গাছ,লোকসানে কৃষক

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া, ঘোনাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা লোকসানে পড়েছেন বেগুন চাষ করে। বেগুন গাছের শেকড় পচে মরে যাচ্ছে গাছ। এতে বেগুন ক্ষেত রক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বেগুন চাষিরা।
সরেজমিনে ফুলবাড়ি উপজেলার বারাইপাড়া গ্রামের মিসির উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমানের বেগুন ক্ষেতের গিয়ে দেখা যায়, মিজানুর রহমানের ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড ও হাজারী জাতের বেগুন চাষ করা হয়েছে। বৈশাখ মাসে বেগুন চারা লাগানোর পর থেকে এ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তার ক্ষেতের উৎপাদিত বেগুন বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকার।
অথচ এ পর্যন্ত মিজানুর রহমানের ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করার কথা। কিন্তু ক্ষেতের বেগুন গাছে শেকড় পচন রোগের আক্রমনে গাছের শেকড় পচে যাচ্ছে আর গাছের ডালগুলো শুকে যাচ্ছে। অন্য গাছ যাতে আক্রান্ত না হয়ে সেজন্য আক্রান্ত গাছগুলো ক্ষেত থেকে উপড়ে ফেলে দিতে হচ্ছে। শুধু মিজানুর রহমানের-ই নয়, বারাইপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে বেগুন চাষি ছলেমন আলী, আব্দুল লতিফের ছেলে বেগুন চাষি মমিনুল ইসলাম, আব্দুল আজিজের ছেলে বেগুন চাষি মিজানুর রহমান ও ময়েজ মুন্সির ছেলে বেগুন চাষি বেলাল উদ্দিনসহ প্রায় সকল বেগুন চাষির বেগুন ক্ষেত এ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তারা উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েছেন। বেগুন চাষি মিজানুর রহমান বলেন, প্রথম থেকে ক্ষেতের বেগুন গাছ বেশ রিষ্টপুষ্ট ছিল। গাছে ফুল ও ফল আসায় উৎপাদিত বেগুন থেকে আশানুরূপ লাভবান হবেন এমন আশা নিয়ে বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই ক্ষেতের ফুল ও ফল ধরা গাছগুলোর মধ্যে দু-একটি করে মরে যেতে শুরু করে। মরা গাছ উপড়ে দেখতে পান শেকড় পচন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ থেকে রক্ষা করতে অন্তত ১০ বার ওষুধ স্প্রে করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। অথচ প্রতিবার ওষুধ স্প্রে করতে খরচ হয়েছে ৪০০ টাকা। প্রতিদিনই শেকড় পচন রোগে আক্রান্ত গাছ উপড়ে ফেলতে হচ্ছে।
এতে বেগুন ক্ষেত এখন গাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বেগুনের বাজার দর চড়া। কৃষক পর্যায় থেকে পাইকাররা ৬০ টাকা কেজি দরে বেগুন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষেতের বেগুন গাছে রোগ বালাই না হলে উৎপাদিত বেগুন থেকে আশানুরূপ লাভ পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠবে না, যা গেছে তার পুরোটাই লোকসানে গেছে।
ঘোনাপাড়া গ্রামের বেগুন চাষি আব্দুর রহিম বলেন, ৮শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। গাছ বড় হওয়ার পরপরই গাছের মাথা শুকিয়ে গোড়া পচে দু- একদিনেই মরে যাচ্ছে। এতে পুরো বেগুন ক্ষেতের গাছই মরে গেছে। এজন্য আবাদের সাড়ে ৩ হাজার টাকাই লোকসানে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, এ সময় বেগুন গাছ ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কোনো কৃষক কৃষি অফিসে আসেননি। তবে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেগুন ক্ষেত দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি,
দিনাজপুর,মঙ্গলবার ৩০ জুলাই এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সর্বশেষ সংবাদ



» গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না-স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে বনানীতে টাস্কফোর্সের অভিযান, লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

» মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

» মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকদের সামাজিক ভাবে বয়কটের আহবান জানালেন এমপি আব্দুল মুনতাকিম

» ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে হত্যা

» মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল

» জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে- প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

আজ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে বেগুন গাছের শেকড় পচে মরে যাচ্ছে গাছ,লোকসানে কৃষক

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া, ঘোনাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা লোকসানে পড়েছেন বেগুন চাষ করে। বেগুন গাছের শেকড় পচে মরে যাচ্ছে গাছ। এতে বেগুন ক্ষেত রক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বেগুন চাষিরা।
সরেজমিনে ফুলবাড়ি উপজেলার বারাইপাড়া গ্রামের মিসির উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমানের বেগুন ক্ষেতের গিয়ে দেখা যায়, মিজানুর রহমানের ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড ও হাজারী জাতের বেগুন চাষ করা হয়েছে। বৈশাখ মাসে বেগুন চারা লাগানোর পর থেকে এ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তার ক্ষেতের উৎপাদিত বেগুন বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকার।
অথচ এ পর্যন্ত মিজানুর রহমানের ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করার কথা। কিন্তু ক্ষেতের বেগুন গাছে শেকড় পচন রোগের আক্রমনে গাছের শেকড় পচে যাচ্ছে আর গাছের ডালগুলো শুকে যাচ্ছে। অন্য গাছ যাতে আক্রান্ত না হয়ে সেজন্য আক্রান্ত গাছগুলো ক্ষেত থেকে উপড়ে ফেলে দিতে হচ্ছে। শুধু মিজানুর রহমানের-ই নয়, বারাইপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে বেগুন চাষি ছলেমন আলী, আব্দুল লতিফের ছেলে বেগুন চাষি মমিনুল ইসলাম, আব্দুল আজিজের ছেলে বেগুন চাষি মিজানুর রহমান ও ময়েজ মুন্সির ছেলে বেগুন চাষি বেলাল উদ্দিনসহ প্রায় সকল বেগুন চাষির বেগুন ক্ষেত এ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তারা উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েছেন। বেগুন চাষি মিজানুর রহমান বলেন, প্রথম থেকে ক্ষেতের বেগুন গাছ বেশ রিষ্টপুষ্ট ছিল। গাছে ফুল ও ফল আসায় উৎপাদিত বেগুন থেকে আশানুরূপ লাভবান হবেন এমন আশা নিয়ে বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই ক্ষেতের ফুল ও ফল ধরা গাছগুলোর মধ্যে দু-একটি করে মরে যেতে শুরু করে। মরা গাছ উপড়ে দেখতে পান শেকড় পচন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ থেকে রক্ষা করতে অন্তত ১০ বার ওষুধ স্প্রে করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। অথচ প্রতিবার ওষুধ স্প্রে করতে খরচ হয়েছে ৪০০ টাকা। প্রতিদিনই শেকড় পচন রোগে আক্রান্ত গাছ উপড়ে ফেলতে হচ্ছে।
এতে বেগুন ক্ষেত এখন গাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বেগুনের বাজার দর চড়া। কৃষক পর্যায় থেকে পাইকাররা ৬০ টাকা কেজি দরে বেগুন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষেতের বেগুন গাছে রোগ বালাই না হলে উৎপাদিত বেগুন থেকে আশানুরূপ লাভ পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠবে না, যা গেছে তার পুরোটাই লোকসানে গেছে।
ঘোনাপাড়া গ্রামের বেগুন চাষি আব্দুর রহিম বলেন, ৮শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। গাছ বড় হওয়ার পরপরই গাছের মাথা শুকিয়ে গোড়া পচে দু- একদিনেই মরে যাচ্ছে। এতে পুরো বেগুন ক্ষেতের গাছই মরে গেছে। এজন্য আবাদের সাড়ে ৩ হাজার টাকাই লোকসানে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, এ সময় বেগুন গাছ ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কোনো কৃষক কৃষি অফিসে আসেননি। তবে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেগুন ক্ষেত দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি,
দিনাজপুর,মঙ্গলবার ৩০ জুলাই এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ সংবাদ



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

প্রধান কার্যালয়: গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা প্রগতি স্বরণী বাড্ডা ঢাকা-১২১২|

Phone: +8801714043198, Email: hbnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © HBnews24.com

Ads Blocker Image Powered by Code Help Pro

Ads Blocker Detected!!!

We have detected that you are using extensions to block ads. Please support us by disabling these ads blocker.

Powered By
100% Free SEO Tools - Tool Kits PRO