নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরের মালিকানাধীন গাজী টায়ার ফ্যাক্টরির আগুন প্রায় ২২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সন্ধ্যা সাতটার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।এ ঘটনায় ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।৭৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
জানা গেছে, গাজী টায়ার ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট টানা কাজ করেছে। এর মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত ফ্যাক্টরিতে থাকা মালামাল লুটপাট করতে যায়। তাদের মধ্যে ১৭৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাছে নিখোঁজদের নাম-পরিচয় দিয়েছেন।
রূপসী এলাকায় গোলাম দস্তগীরের মালিকানাধীন টায়ার কারখানা; কর্ণগোপ এলাকায় ও পাইপ ট্যাংক কারখানা রয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন ও লুটপাটকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে গাজী টায়ার, পাইট ও ট্যাংক কারখানায় হামলা চালায়। তারা সেখানকার কক্ষ ও গুদাম ঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করে। পরে দুই কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
এসব ঘটনার পর গোলাম দস্তগীর গাজীকে ঢাকার শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জের নবকিশোলয় হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোমান মিয়া হত্যার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বজনরা। তারপর দস্তগীর গাজীকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে তোলে পুলিশ। তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। বিচার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর রোববার সন্ধ্যায় কয়েকশ লোক গাজীর কারখানায় হামলা করে। লুটপাট ভাঙচুরের পর তার কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উপেক্ষা করে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায় লোকজন।
রাত রাড়ে ৯টার দিকে গাজীর কারখানার ৬ তলা ভবনে ঢোকে। ওই ভবনে কেমিকেল ও টায়ার তৈরির কাঁচামাল ছিল। ভবনের ভেতরে লুটপাট নিয়ে দুটি পক্ষের মাঝে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এসময় একটি পক্ষ ভবন ত্যাগ করলে সেখানকার প্রবেশ গেট বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুরো ভবনে আগুন লেগে যায়। পরে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখা ৬০ থেকে ৮০ ফুট উঁচুতে উঠে পড়ে। ভবনের ভেতরে আটকা পড়া অনেকেই স্বজনদের ফোন করে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানান।
আটকে পড়াদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর ঢাকার ফুলবাড়িয়া, ডেমরা, কাঞ্চন, আড়াইহাজার ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কর্মযজ্ঞ শুরু করে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আগুন নেভানোর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় নিখোঁজদের পরিবার ফের কারখানায় ভিড় করতে শুরু করেন। তারা ফায়ার সার্ভিসের কাছে ১৭৬ জনের নাম-পরিচয় জানিয়েছেন। বেশির ভাগ নিখোঁজদের বাড়ি উপজেলার মিকুলী, রূপসী কাজিপাড়া, ছাতিয়ান, মুগরাকুল, কাহিনা, বরপা, মাসাবো, তারাব, বরাব, মুড়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকার।
ভয়াবহ এ আগুনে কারখানার আশপাশের মার্কেট, হাটবাজার, শিল্প কলকারখানা ও এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও বিএনপি নেতারা অবস্থান করছেন।
সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষক) রেজাউল করিম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগুন নেভানোর পর নিখোঁজদের ব্যাপারে বলা যাবে। আমাদের কাছে ১৭৬ জন নিখোঁজের তালিকা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ,সোমবার ২৬ আগষ্ট এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















