নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুণ—ভূমি উপদেষ্টা

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন,ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। কারণ এই করের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত ও স্থিতিশীল অর্থায়নের সুযোগ পায়। সড়ক যোগাযোগ,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ব্যবহৃত হয়। নাগরিকের দেওয়া করই আবার জনগণের কল্যাণে ফিরে আসে। ভূমি থেকে সঠিকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ভূমির মালিক গণকে নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন রাষ্ট্র বির্নিমাণে অংশীদার হোন।
আজ (সোমবার) রাজধানীর ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করনীয় নির্ধারণ’ বিষয়ক ‘’কর্মশালায়’’ তিনি এসব কথা বলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ.জে.এম.সালাউদ্দিন নাগরী।
উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমের ফলে ২০২০ সাল থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমদিকে অনলাইন সিস্টেমে কিছু সমস্যা ছিল এখন শতভাগ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ হচ্ছে। এতে হয়রানী যেমন কমছে অপরদিকে মানুষের মাঝে কর পরিশোধের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ সংস্থার কর পরিশোধে উদাসিনতা রাষ্ট্রীয় রাজস্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে ভুল বার্তা দেয়।
তিনি আরো বলেন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর আদায় অপরিহার্য। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধের মাধ্যমে ভূমির মালিকরা কেবল আইনগত দায়িত্বই পালন করেন না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখেন। অন্যদিকে কর ফাঁকি বা উদাসীনতা রাজস্ব ঘাটতি সৃষ্টি করে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে,সরকার তার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধকে শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কর পরিশোধে সচেতনতা বাড়লে যেমন রাষ্ট্র উপকৃত হবে, তেমনি ভূমির মালিকানাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত
হবে। নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট বকেয়া ৭১১ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ২শত টাকা। এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৮২ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে জুন/২৫ পর্যন্ত সংস্থা /প্রতিষ্ঠানের কাছে ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া ৫শ ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ১৪৯ কোটি৪২লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বেশি বকেয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ২২০.২৫ কোটি টাকা।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম.সালেহ আহমেদ,ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান(সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড.মো:মাহমুদ হাসান । আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর অধিন দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ঢাকা,সোমবার ১৯ জানুয়ারি এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সর্বশেষ সংবাদ



» গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না-স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে বনানীতে টাস্কফোর্সের অভিযান, লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

» মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

» মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকদের সামাজিক ভাবে বয়কটের আহবান জানালেন এমপি আব্দুল মুনতাকিম

» ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে হত্যা

» মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল

» জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে- প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

আজ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুণ—ভূমি উপদেষ্টা

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন,ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। কারণ এই করের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত ও স্থিতিশীল অর্থায়নের সুযোগ পায়। সড়ক যোগাযোগ,শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ব্যবহৃত হয়। নাগরিকের দেওয়া করই আবার জনগণের কল্যাণে ফিরে আসে। ভূমি থেকে সঠিকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ভূমির মালিক গণকে নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন রাষ্ট্র বির্নিমাণে অংশীদার হোন।
আজ (সোমবার) রাজধানীর ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করনীয় নির্ধারণ’ বিষয়ক ‘’কর্মশালায়’’ তিনি এসব কথা বলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ.জে.এম.সালাউদ্দিন নাগরী।
উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমের ফলে ২০২০ সাল থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমদিকে অনলাইন সিস্টেমে কিছু সমস্যা ছিল এখন শতভাগ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ হচ্ছে। এতে হয়রানী যেমন কমছে অপরদিকে মানুষের মাঝে কর পরিশোধের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ সংস্থার কর পরিশোধে উদাসিনতা রাষ্ট্রীয় রাজস্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে ভুল বার্তা দেয়।
তিনি আরো বলেন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর আদায় অপরিহার্য। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধের মাধ্যমে ভূমির মালিকরা কেবল আইনগত দায়িত্বই পালন করেন না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখেন। অন্যদিকে কর ফাঁকি বা উদাসীনতা রাজস্ব ঘাটতি সৃষ্টি করে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে,সরকার তার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধকে শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কর পরিশোধে সচেতনতা বাড়লে যেমন রাষ্ট্র উপকৃত হবে, তেমনি ভূমির মালিকানাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত
হবে। নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট বকেয়া ৭১১ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ২শত টাকা। এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৮২ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে জুন/২৫ পর্যন্ত সংস্থা /প্রতিষ্ঠানের কাছে ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া ৫শ ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ১৪৯ কোটি৪২লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বেশি বকেয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ২২০.২৫ কোটি টাকা।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম.সালেহ আহমেদ,ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান(সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড.মো:মাহমুদ হাসান । আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর অধিন দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ঢাকা,সোমবার ১৯ জানুয়ারি এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ সংবাদ



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

প্রধান কার্যালয়: গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা প্রগতি স্বরণী বাড্ডা ঢাকা-১২১২|

Phone: +8801714043198, Email: hbnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © HBnews24.com

Ads Blocker Image Powered by Code Help Pro

Ads Blocker Detected!!!

We have detected that you are using extensions to block ads. Please support us by disabling these ads blocker.

Powered By
Best Wordpress Adblock Detecting Plugin | CHP Adblock