ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলার আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে পালাতে মাইক্রোবাস ভাড়া করে দেন মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে একথা স্বীকার করেন তিনি।
তবে নুরুজ্জামান বলেন, মাইক্রোবাস ভাড়া করে দিলেও হামলা করে সেই গাড়িতে পালানোর কথা তিনি জানতেন না। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের তথ্য থেকে জানা যায় নুরুজ্জামান ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তিনি এ মামলার অপর আসামিকে গাড়িতে করে পালিয়ে যেতে ভাড়ার গাড়ি দিয়ে সাহায্য করেন এবং গাড়ির চালককে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন। আসামির সঙ্গে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্য–প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিকল্পনাকারী ও জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের শুনানি করেন। তবে শুনানিতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানির একপর্যায়ে আসামি নুরুজ্জামান নিজেই আদালতে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করি। ৯ মাস আগে আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। তবে তিন মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা হয়নি। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে গাড়ি ভাড়া নিতেন। তিনি সাটুরিয়া ও আলাউদ্দিন পার্কে যেতেন এবং বিকাশে পেমেন্ট করতেন।
নুরুজ্জামান আরও বলেন, ঘটনার দিন আমার নিজের গাড়ি ছিল না। ওইদিন আমার বন্ধু সুমনের গাড়ি ঠিক করে দিয়েছিলাম। গাড়ি নিয়ে প্রথমে মৎস্য ভবনের সামনে যেতে বলেন। পরে আবার ফোন দিয়ে আগারগাঁও বিএনপি বাজারে যেতে বলেন। আমি তো গাড়ির ব্যবসা করি, গাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা কী করছে, সেটা তো আমি বলতে পারব না।এ সময় বিচারক বলেন, বিষয়গুলো আপনি জানেন। রিমান্ড কোনো শাস্তি নয়। আপনি তদন্তে আরও সহযোগিতা করুন।
এরপর বিচারক তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
গত ১৪ আগস্ট ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জাবেদ বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
এই মামলায় ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপুকে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
ঢাকা,বুধবার ১৭ ডিসেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















