ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করা যাবে এনসিপি মনোনয়ন ফরম। তবে জুলাই যোদ্ধা ও নিম্ন আয়ের মানুষ এ ফরম দুই হাজার টাকায় সংগ্রহ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন আবেদন ফরম বিক্রি করা হবে। ১৫ তারিখ মনোনয়ন আবেদন প্রাথমিক বাছাই তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন ফরমের মূল্য ১০ হাজার টাকা। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, শ্রমিক, কৃষক, কুলি, মজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মনোনয়ন ফরমের দাম দুই হাজার টাকা।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি রয়েছে এই পরিস্থিতিতে একটি দল নিজস্ব কিছু ব্যক্তিকে মানুষের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এ দুর্বৃত্তায়ন ভাঙতে চাই। আমরা এ টপ ডাউন সিস্টেম থেকে ডাউন টু টপ সিস্টেমে যেতে চাই। অর্থাৎ সরকার এবং জনগণের মধ্যে যে পার্লামেন্ট রয়েছে এ পার্লামেন্ট হাউজে আমরা জনগণের প্রতিনিধি পাঠাতে চাই।
তিনি বলেন, এনসিপি সংসদে কোনো দলীয় প্রতিনিধি পাঠাতে চায় না। আপনারা জানেন যে আমাদের দলের নাম হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি অর্থাৎ সিটিজেনদের যে রাইটস সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। যে বিষয়টা আমরা বারবার উল্লেখ করতে চাচ্ছি, আমরা কোনো দলের প্রতিনিধি মানুষের উপরে চাপিয়ে দিতে চাই না। জনগণের প্রতিনিধি দিতে চাই। আমাদের দল থেকে যারা মনোনয়নপত্র তুলবেন ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে যাবেন। তারা জনগণের প্রতিনিধি হবেন। আমাদের দলের প্রতিনিধি হবেন না।
নাসীরুদ্দীন বলেন, আপনারা জানেন যে আমাদের পার্লামেন্টে আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সেখানে যে সংসদ সেশনটা চলে সবাই সেখানে কালভার্ট-ব্রিজ তার এলাকার কি সমস্যা সেগুলো বলে থাকে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রীয় যে আইনগুলো বানানোর কথা, ড্রাফটিং করার কথা সে বিষয়ে তারা তাদের কারো স্কিল সেট থাকে না, আমরা যদি ভালো কিছু করে সংসদে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের যে রুলস রেগুলেশন জনগণের যে সমস্যাগুলো পলিসিতে ডিসিশন রয়েছে সেখানে আমরা সমাধান করতে পারবো বলে আশা করি।এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, আপনি যদি বড় ব্যবসায়ী না হন, আপনি যদি গডফাদার না হন, আপনি যদি চাঁদাবাজ না হন তাহলে আপনি বাংলাদেশের সংসদে যাইতে পারবেন না। আমরা এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছি, যারা স্বচ্ছ এবং সমাজের আলেম সমাজ, নারী সমাজ এবং সমাজের শ্রদ্ধেয় যারা ব্যক্তিরা রয়েছেন, যারা কমিউনিটি লিডার রয়েছেন আমরা তাদের সংসদে নিয়ে যেতে চাই। যারা আইন প্রণেতা রয়েছেন, বিজ্ঞ আইনজীবী রয়েছেন, ডক্টর আছেন, যারা ইঞ্জিনিয়ার আছেন, সমাজের প্রান্তিক লেভেলে যারা শিক্ষক আছেন এবং সমাজের গণ্যমান্য যারা রয়েছেন তাদের আমরা সংসদে নিয়ে যেতে চাই।
প্রতীক বিক্রি বন্ধ হয়েছে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, পূর্বে যে ধরনের চার দলীয় জোট, মহাজোট হতো এটা এখন আর কাজ করবে না। আপনারা জানেন প্রত্যেকটা পার্টিকে তার নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। প্রতীক বিক্রির দিন শেষ আবু সাঈদের বাংলাদেশ।
ঢাকা,বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















