বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মহান শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা নিবেদন করছি-শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, যা শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয় বরং সমাজ কিংবা রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি। প্রাচীনকাল থেকে শিক্ষককে গুরু, পণ্ডিত, আচার্য বা আলোকবর্তিকা হিসেবে গণ্য করা হয়। কারন একজন শিক্ষক সমাজে জ্ঞান বিতরণ করেন মানুষকে শিক্ষিত করে তোলেন এবং সঠিক মূল্যবোধে গড়ে তোলেন।
**প্রথমত* : শিক্ষক জাতির ভবিষ্যত নির্মাতা। বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটলের মতে- “Teachers who educate children deserve more honour than parents, for parents gave life, but teacher give the art of living well.” অর্থাৎ যেসব শিক্ষক শিশুদের শিক্ষা দান করেন তারা পিতামাতা থেকেও বেশি সম্মানের যোগ্য। কারন পিতামাতা শুধু জীবন দেন, কিন্তু শিক্ষক শেখান সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার শিল্প।
এর দ্বারা বুঝা যায়, শিক্ষক শুধু জ্ঞান দান করেন না, বরং মানুষকে সু-সভ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
**দ্বিতীয়ত* : শিক্ষকের অবদান ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনা। বাংলাদেশের সংবিধানের – ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে -” রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে জনগণের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষকের ভূমিকাই মুখ্য।
**তৃতীয়ত* : শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তক শেখানো / গলাধঃকরণ নয়; বরং শিক্ষার্থীর নৈতিকতা, চরিত্র ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের ক্ষেত্র। গবেষণায় দেখা যায়, যে দেশে শিক্ষক সমাজ মর্যাদাপূর্ণ, সে দেশের শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সমৃদ্ধ।
**চতুর্থত* :শুধু জীবন পাওয়া যথেষ্ট নয়; কিভাবে জীবনকে সুন্দর, সার্থক ও কল্যাণকর করা যায় তা শেখান শিক্ষকেরা। তাই শিক্ষকের মর্যাদা পিতামাতার পরম সম্মানের কোনো অংশে কম নয়। কারন তিনি জীবনকে শুধু অস্তিত্বে সীমাবদ্ধ রাখেন না। বরং জীবনযাত্রাকে সুশৃঙ্খল ও মহৎ করে তোলেন।
# জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে শিক্ষা। আর এই শিক্ষাই যদি হয় ভঙ্গুর কিংবা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা যদি নড়বড়ে থাকে, শিক্ষক সমাজ নিজেরাই যদি মেরুদণ্ড নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারে তাহলে জাতির মেরুদণ্ড সোজা রাখা তাদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব?# তাই আমি মনে করি জাতির উচিত শিক্ষক সমাজের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে তাদের দিকে একটু সু -দৃষ্টি দেয়া। আর শিক্ষক সমাজের উচিত তার দায়িত্ব জ্ঞানের সাথে সাথে নিজের সম্মানকে ধরে রাখা। এই দুটি বিষয় যদি এক ও অভিন্ন হয়ে যায় তাহলে আমাদের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো আরো সুদৃঢ় ও কল্যাণকর হবে বলে আমি মনে করি।
# সম্মানিত শিক্ষক সমাজের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, পরকালীন কল্যাণ / মুক্তির আশায় সুশিক্ষা কিংবা নৈতিক শিক্ষার অভিযান আমৃত্যু চালিয়ে যেতে হবে। ইহকালে আর্থিকভাবে আমি কি পেলাম এটা মুখ্য বিষয় নয়। কারন আমাদের প্রিয় নবী (সা.) নিজেও একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলেন-” আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। ” শিক্ষকতা যেমন একটি মহান পেশা, তেমনই একটি ব্রত। যার সঠিক নিয়তের উপর নির্ভর করে একটি সদকায়ে জারিয়া(চলমান সওয়াব), যা মৃত্যুর পরেও চলতে থাকে। কারন শিক্ষক যে জ্ঞান দান করেন তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে যায়। তাই আমাদের এই পথ চলা হোক পরকালীন মুক্তির একমাত্র পয়গাম। আমিন।।
লেখক –
মো. সোহরাফ হোসেন
সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা)
ভগীরথপুর হাজী লাল মিয়া মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় সদর, নরসিংদী।
নরসিংদী,বৃহস্পতিবার ৯ অক্টোবর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















