দেশের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রবেশ করে।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন—সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
পরে এ বিষয় নিয়ে করা এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়া জানিয়েআব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, যে সরকার (অন্তর্বর্তী) একটি বাসস্ট্যান্ড চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা করতে পারে না সেই সরকার কীভাবে এত বড় নির্বাচন করবে? বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত।
তিনি বলেন, এই সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আগে এক গ্রুপ বাসস্ট্যান্ড দখলে নিয়েছে। এখন আরেক গ্রুপ নিয়েছে। মনে হচ্ছে, সরকার হাত পা ছেড়ে দিয়েছে। সরকারকে এখন আরও কঠোর হতে হবে। এখনো এর থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব।
নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর দুঃখ প্রকাশ করে বলবে, ‘এভাবে নির্বাচন দিতে চাইনি’ এটা হবে না, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য করণীয়, বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ৩ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংস্কার, বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন।
তাহের বলেন, একটা নীলনকশার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কিনা, এমন প্রশ্ন উঠেছে। লন্ডনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরিকল্পিত নির্বাচন হলে গণতন্ত্রকামী মানুষদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সংকুচিত হয়ে যাবে।
নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে দ্বিমত-দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবে নির্বাচনের কার্যকারিতার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছি।
ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করা ৩১টি দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ শুধু উচ্চকক্ষে চায়, জামায়াতসহ অনেকে উভয়কক্ষে পিআর চায়। কেন্দ্র দখল ঠেকাতে এই নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি। মেজরিটিকে অবজ্ঞা করে কারও চাপে নির্বাচনে গেলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমাদের জন্য নির্বাচনে যাওয়া সংকুচিত হয়ে যাবে।
দুয়েকটি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে তাহের বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কাছে আইনি ভিত্তির দাবি জানিয়েছে জামায়াত। জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। বাস্তবায়ন না হলে জুলাই শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।
জুলাই সনদ নিয়ে একটি দলই বাধা দিচ্ছে উল্লেখ করেন তাহের। কিন্তু কোন দল সেটি না জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ, পিআর নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া উচিত। তারা গণভোটে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের উচিৎ স্টেকদের সাথে আলাপ আলোচনা করে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা উচিৎ।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরুর ওপর হামলার বিষয়েও কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি বলেন, তার ওপর যে হামলা হয়েছে তার ষড়যন্ত্র অনেক গভীরে। এটি উদঘাটন করে ব্যবস্থা নিতে হবে।আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ঢাকা,রোববার ৩১ আগষ্ট এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















