বছর ঘুরে আবারও ফিরে এলো সেই মহাকাব্যিক রক্তিম জুলাই

সরকারি চাকরিতে ‘কোটা প্রথা’ বাতিলের দাবিতে অরাজনৈতিক ব্যানারে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ৭২ সাল থেকে চলে আসা বৈষম্যমূলক পদ্ধতি সংস্কার চেয়ে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়, চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে। লাগাতার আন্দোলনে ক্ষুব্ধ ও বাধ্য হয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৪৬ বছরের কোটাব্যবস্থা বাতিল করে দেন শেখ হাসিনা।

কোটা বাতিলের কয়েক বছর না যেতেই ‘দুষ্টু বুদ্ধি’ মাথায় আসে তখনকার সরকারের। ২০২৪ সালের ‘৫ জুন’ আবার বহাল করানো হয় আদালতের মাধ্যমে। এতে আবারও শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। এরপর ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারকে আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। চলতে থাকে আন্দোলনের প্রস্তুতি।সরকার কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি করে। এটি পুনর্বহাল চেয়ে ১ জুলাই শুরু হয় ধারাবাহিক আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা এক প্লাটফর্মে গঠন করেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। বৈষম্যবিরোধীর ব্যানারে গ্রন্থাগার থেকে মিছিল শুরু হয় বেলা ১১টায় । রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয়ে আন্দোলন ও সমাবেশে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আহ্বান জানান, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত সুরাহার।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ২৮ ও ২৯ জুন সবাই মিলে পরিকল্পনা করে নাম ঠিক করলাম ব্যানারের নাম হবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। ১ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু করি। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত যাই। সেখানে দাঁড়িয়ে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের একটি কর্মসূচি দেই।

একইদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। এছাড়া জগন্নাথ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্পষ্ট হতে থাকে তীব্রতার লক্ষণ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ওই সময়ে একটি সুবিধা হয়েছিল যে শিক্ষকদের পেনশন স্কিম বাতিল করায় তারাও আন্দোলন করছিলেন। ফলে শিক্ষার্থী যারা ছিল, তাদের ক্লাস কিংবা পরীক্ষার চাপ ছিল না। ফলে বিশাল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আমরা ১ জুলাই দেখতে পাই। মূলত, সেই বিশাল জনসমাগম আমাদের সাহস ও স্পৃহা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেহেতু আমরা বিরাজনীতিকরণের একটা সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘ভাষা’। ওই সময়ে রাজনীতি বিমুখ যেসব মানুষ ছিলেন, তাদের মাঝে ভাষাগত নতুনত্ব সম্পৃক্ত করতে পেরেছি।

সেই জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত ছুঁড়ে ফেলে পরম প্রতাপশালী শেখ হাসিনাকে। টিকতে না পেরে ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
ঢাকা,মঙ্গলবার ০১ জুলাই এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সর্বশেষ সংবাদ



» গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না-স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে বনানীতে টাস্কফোর্সের অভিযান, লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

» মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

» মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকদের সামাজিক ভাবে বয়কটের আহবান জানালেন এমপি আব্দুল মুনতাকিম

» ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে হত্যা

» মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল

» জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে- প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

আজ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বছর ঘুরে আবারও ফিরে এলো সেই মহাকাব্যিক রক্তিম জুলাই

সরকারি চাকরিতে ‘কোটা প্রথা’ বাতিলের দাবিতে অরাজনৈতিক ব্যানারে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ৭২ সাল থেকে চলে আসা বৈষম্যমূলক পদ্ধতি সংস্কার চেয়ে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়, চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে। লাগাতার আন্দোলনে ক্ষুব্ধ ও বাধ্য হয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৪৬ বছরের কোটাব্যবস্থা বাতিল করে দেন শেখ হাসিনা।

কোটা বাতিলের কয়েক বছর না যেতেই ‘দুষ্টু বুদ্ধি’ মাথায় আসে তখনকার সরকারের। ২০২৪ সালের ‘৫ জুন’ আবার বহাল করানো হয় আদালতের মাধ্যমে। এতে আবারও শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। এরপর ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারকে আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। চলতে থাকে আন্দোলনের প্রস্তুতি।সরকার কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি করে। এটি পুনর্বহাল চেয়ে ১ জুলাই শুরু হয় ধারাবাহিক আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা এক প্লাটফর্মে গঠন করেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। বৈষম্যবিরোধীর ব্যানারে গ্রন্থাগার থেকে মিছিল শুরু হয় বেলা ১১টায় । রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয়ে আন্দোলন ও সমাবেশে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আহ্বান জানান, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত সুরাহার।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ২৮ ও ২৯ জুন সবাই মিলে পরিকল্পনা করে নাম ঠিক করলাম ব্যানারের নাম হবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। ১ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু করি। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত যাই। সেখানে দাঁড়িয়ে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের একটি কর্মসূচি দেই।

একইদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। এছাড়া জগন্নাথ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্পষ্ট হতে থাকে তীব্রতার লক্ষণ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ওই সময়ে একটি সুবিধা হয়েছিল যে শিক্ষকদের পেনশন স্কিম বাতিল করায় তারাও আন্দোলন করছিলেন। ফলে শিক্ষার্থী যারা ছিল, তাদের ক্লাস কিংবা পরীক্ষার চাপ ছিল না। ফলে বিশাল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আমরা ১ জুলাই দেখতে পাই। মূলত, সেই বিশাল জনসমাগম আমাদের সাহস ও স্পৃহা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেহেতু আমরা বিরাজনীতিকরণের একটা সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘ভাষা’। ওই সময়ে রাজনীতি বিমুখ যেসব মানুষ ছিলেন, তাদের মাঝে ভাষাগত নতুনত্ব সম্পৃক্ত করতে পেরেছি।

সেই জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত ছুঁড়ে ফেলে পরম প্রতাপশালী শেখ হাসিনাকে। টিকতে না পেরে ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
ঢাকা,মঙ্গলবার ০১ জুলাই এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ সংবাদ



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

প্রধান কার্যালয়: গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা প্রগতি স্বরণী বাড্ডা ঢাকা-১২১২|

Phone: +8801714043198, Email: hbnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © HBnews24.com

Ads Blocker Image Powered by Code Help Pro

Ads Blocker Detected!!!

We have detected that you are using extensions to block ads. Please support us by disabling these ads blocker.

Powered By
100% Free SEO Tools - Tool Kits PRO