কিশোরগঞ্জে বারুনীর নামে চাঁদাবাজী রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী টটুয়ার বারুনী প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের দখলে থাকায় ৬ বছর ধরে ইজারা নিচ্ছে না প্রকৃত ইজারা ব্যবসায়ীরা। ফলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। গত ৩ ও ৪ এপ্রিল দুদিন ব্যাপী তিনশত বছরের পুরনো টটুয়ার বারুনী মেলা শেষ হয়েছে। এতে সিন্ডিকেটটি ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বারুনীতে চাঁদাবাজদের কবল থেকে বাদ পড়েনি রসুন, খেলনা এমনকি পান ব্যবসায়ীরাও। চাঁদা না দিলে জোড় করে পন্য আটক রাখা হত ব্যবসায়ীদের।
জানা গেছে বড়ভিটা ইউনিয়নের টটুয়ার ডাঙ্গায় ১২ একর খাস জমির উপর প্রতিবছর চৈত্রী মাস হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্নপূর্না পূজা উপলক্ষে এ বারুনী বসে। বিভিন্ন জেলা থেকে ১০ লাখ লোকের আগমন ঘটে বারুনীতে। ২শ থেকে ৩শ নানা ব্যবসায়ী তাদের পন্য বিক্রি করেন।
বারুনীতে মোটা চাঁদা আদায়ের জন্য নিয়ে আসা হয় পুতুল নাচ, জাদু খেলা, মোটর সাইকেল খেলা, নাগরদোলা সহ আরো অনেক বিনোদন।
বারুনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিরেন্দ্র নাথের নেতৃত্বে এসব ব্যবসায়ী এবং বিনোদন প্যান্ডেল মালিকদের কাছ থেকে জায়গা দখলে দেয়ার পরিমান অনুযায়ী ৩০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হয়েছে। এদের হাত থেকে বাদ যায়নি স্বল্প পুঁজির গরীব রসুন, খেলনা ও পান ব্যবসায়ীরাও। শিশুদের খেলনা ব্যাঙগাড়ী ব্যবসায়ী স্বপন অভিযোগ করে বলেন বারুনী কমিটি আমার কাছ থেকে টোকেন দিয়ে ৩০০ টাকা চাঁদা নিয়ে গেছে।
এই সিন্ডিকেটটি এতই প্রভাবশালী যে, প্রকৃত ইজারাদাররা সাহস দেখান না বারুনী ইজারা নিতে। গত ২০১৯ সালে টটুয়ার বারুনীর শেষ ইজারা দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকায়। অদ্যাবধী আর কোন ইজারা দেয়া হয়নি।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলার রহমান বলেন, ৬ বছর আগে এই ঐতিহ্যবাহী টটুয়ার বারুনী ইজারা দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ত।
২০১৯ সালে এর দরপত্র দর ছিল ৩ লাখের উপরে। এর পর কেন যে উপজেলা প্রশাসন বারুনী ইজারা দিচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। এতে করে আমার পরিষদের আয় অনেকাংশে কমে গেছে।

বারুনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, চাঁদা আদায় করা হয়েছে দোকান প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ২০ হাজার টাকা নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বারুনী ইজারার বিষয়টি লম্বা প্রসেস। বারুনী পরিচালনা কমিটি মেলা করার বিষয়ে শেষ মুহুর্তে আবেদন করেছে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে বারুনী ইজারা দেওয়ার কোন সুযোগ ছিলনা। তারা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে। চাঁদা তোলার অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে মেলা বন্ধ করে দিয়েছি।

মোঃ শাহজাহান সিরাজ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ
নীলফামারী,সোমবার ০৭ এপ্রিল এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সর্বশেষ সংবাদ



» গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না-স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে বনানীতে টাস্কফোর্সের অভিযান, লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

» মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

» মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকদের সামাজিক ভাবে বয়কটের আহবান জানালেন এমপি আব্দুল মুনতাকিম

» ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে হত্যা

» মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল

» জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে- প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

আজ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে বারুনীর নামে চাঁদাবাজী রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী টটুয়ার বারুনী প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের দখলে থাকায় ৬ বছর ধরে ইজারা নিচ্ছে না প্রকৃত ইজারা ব্যবসায়ীরা। ফলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। গত ৩ ও ৪ এপ্রিল দুদিন ব্যাপী তিনশত বছরের পুরনো টটুয়ার বারুনী মেলা শেষ হয়েছে। এতে সিন্ডিকেটটি ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বারুনীতে চাঁদাবাজদের কবল থেকে বাদ পড়েনি রসুন, খেলনা এমনকি পান ব্যবসায়ীরাও। চাঁদা না দিলে জোড় করে পন্য আটক রাখা হত ব্যবসায়ীদের।
জানা গেছে বড়ভিটা ইউনিয়নের টটুয়ার ডাঙ্গায় ১২ একর খাস জমির উপর প্রতিবছর চৈত্রী মাস হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্নপূর্না পূজা উপলক্ষে এ বারুনী বসে। বিভিন্ন জেলা থেকে ১০ লাখ লোকের আগমন ঘটে বারুনীতে। ২শ থেকে ৩শ নানা ব্যবসায়ী তাদের পন্য বিক্রি করেন।
বারুনীতে মোটা চাঁদা আদায়ের জন্য নিয়ে আসা হয় পুতুল নাচ, জাদু খেলা, মোটর সাইকেল খেলা, নাগরদোলা সহ আরো অনেক বিনোদন।
বারুনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিরেন্দ্র নাথের নেতৃত্বে এসব ব্যবসায়ী এবং বিনোদন প্যান্ডেল মালিকদের কাছ থেকে জায়গা দখলে দেয়ার পরিমান অনুযায়ী ৩০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হয়েছে। এদের হাত থেকে বাদ যায়নি স্বল্প পুঁজির গরীব রসুন, খেলনা ও পান ব্যবসায়ীরাও। শিশুদের খেলনা ব্যাঙগাড়ী ব্যবসায়ী স্বপন অভিযোগ করে বলেন বারুনী কমিটি আমার কাছ থেকে টোকেন দিয়ে ৩০০ টাকা চাঁদা নিয়ে গেছে।
এই সিন্ডিকেটটি এতই প্রভাবশালী যে, প্রকৃত ইজারাদাররা সাহস দেখান না বারুনী ইজারা নিতে। গত ২০১৯ সালে টটুয়ার বারুনীর শেষ ইজারা দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকায়। অদ্যাবধী আর কোন ইজারা দেয়া হয়নি।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলার রহমান বলেন, ৬ বছর আগে এই ঐতিহ্যবাহী টটুয়ার বারুনী ইজারা দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ত।
২০১৯ সালে এর দরপত্র দর ছিল ৩ লাখের উপরে। এর পর কেন যে উপজেলা প্রশাসন বারুনী ইজারা দিচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। এতে করে আমার পরিষদের আয় অনেকাংশে কমে গেছে।

বারুনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, চাঁদা আদায় করা হয়েছে দোকান প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ২০ হাজার টাকা নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বারুনী ইজারার বিষয়টি লম্বা প্রসেস। বারুনী পরিচালনা কমিটি মেলা করার বিষয়ে শেষ মুহুর্তে আবেদন করেছে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে বারুনী ইজারা দেওয়ার কোন সুযোগ ছিলনা। তারা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে। চাঁদা তোলার অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে মেলা বন্ধ করে দিয়েছি।

মোঃ শাহজাহান সিরাজ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ
নীলফামারী,সোমবার ০৭ এপ্রিল এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ সংবাদ



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

প্রধান কার্যালয়: গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা প্রগতি স্বরণী বাড্ডা ঢাকা-১২১২|

Phone: +8801714043198, Email: hbnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © HBnews24.com

Ads Blocker Image Powered by Code Help Pro

Ads Blocker Detected!!!

We have detected that you are using extensions to block ads. Please support us by disabling these ads blocker.

Powered By
100% Free SEO Tools - Tool Kits PRO