বঙ্গোপসারের বুকে জেগে ওঠা চরগুলো অতিথি পাখি অভয়ারন্য

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসারের বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে এখন অতিথি পাখির অভয়ারন্য। প্রতি বছরের ন্যায় শীত মৌসুমের শুরুর দিকে হাজারো রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখি আসে। সীমানা পেড়িয়ে সাময়িক আশ্রয়স্থল হিসেবে চর বিজয়, গঙ্গামতির চর ও কাউয়ার চর এলাকা বেচে নেয় তারা। এদের মধ্যে রয়েছে রামঘুঘু, ধূসর বটের, হলদে খঞ্চনা, গাঙচিল, চখাচখি, বদর কবুতার সহ অসংখ্য বালিহাঁস। নাম না জানা নানা বর্ণের এই পাখির কল-কাকলিতে মুখরিত থাকে ওইসব চর। যেন এক নৈসর্গিক পরিবেশ।
দিগন্তজোড়া আকাশ আর সমুদ্রের নীল জলরাশি আছড়ে পড়ছে কিনারায়। একই সাথে সাদা গাঙচিলের দল এদিক-ওদিক উড়ে যাচ্ছে। আর আগত পর্যটকরা উপভোগ করছেন পাখির ওড়াউড়ি। অবাধ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দল বেঁধে পানিতে ভেসে চলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দিও করছেন অনেকে। আবার দর্শনার্থীরা কাছে যেতেই ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির শব্দ করে এসব পাখি উড়ে যায় আকাশে।
পর্যটকরা জানান, সামাজিক সংগঠন ও সরকারের পক্ষ থেকে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল সৃষ্টিতে পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় আরও বেশি পাখির আগমন ঘটবে। একই সঙ্গে এলাকাটি সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠবে।
পরিবেশবীদের মতে, এসব পাখি শীত প্রধান অঞ্চল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কয়েক মাসের অতিথি হয়ে এ দেশে আসে। এরা মূলত বেশিরভাগই উপক‚লীয় দ্বীপ এবং চরাঞ্চলগুলোতে আশ্রয় নেয়। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পাখিরা ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন এবং মাটিকে উর্বর করে তোলাসহ জলজ পরিবেশকে সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। কিন্তু আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারিদের ফাঁদে পড়ে এদের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
ট্যুরিস্ট বোড মালিক সমিতির সভাপতি মো.জনি আলমগীর বলেন, বর্তমানে সাগরে মাঝে জেগে ওঠা চরগুলো এখন অতিথি পাখির অভয়ারন্য। রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখি দেখে আগত পর্যটকারও মুগ্ধ হচ্ছে। তবে শীত মৌসুমের শুরুর দিকে এসব পাখি ওইসব চরগুলোতে আশ্রয় নেয় বলে তিনি জানান।
এনিমেল লাভার অব কলাপাড়া শাখার টিম লিডার মো.রাকায়েত আহসান জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ থেকে অতিথি পাখিরা এসেছে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত অতিথি পাখি রক্ষায় এগিয়ে আসা। আর এসব পাখির বাসস্থান রক্ষা করা। তারা অল্প কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছে। কোন ভাবেই তাদেরকে আহার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর আমরা দেখতে পাই বিষটোপ ও ইয়ারগান সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অতিথি পাখি নিধন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বে-আইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচা-কেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে বলে জানা গেছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,বৃহস্পতিবার ২৮ নভেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সর্বশেষ সংবাদ



» ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলের কাছে আবারও ভূমিকম্প

» মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ

» রাজধানীর কাঁটাবনে আল বারাকা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু

» গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না-স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে বনানীতে টাস্কফোর্সের অভিযান, লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

» মালয়েশিয়া-চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

» মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকদের সামাজিক ভাবে বয়কটের আহবান জানালেন এমপি আব্দুল মুনতাকিম

» ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনী দালান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করা হয়েছে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে

» লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে হত্যা

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

আজ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসারের বুকে জেগে ওঠা চরগুলো অতিথি পাখি অভয়ারন্য

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসারের বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে এখন অতিথি পাখির অভয়ারন্য। প্রতি বছরের ন্যায় শীত মৌসুমের শুরুর দিকে হাজারো রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখি আসে। সীমানা পেড়িয়ে সাময়িক আশ্রয়স্থল হিসেবে চর বিজয়, গঙ্গামতির চর ও কাউয়ার চর এলাকা বেচে নেয় তারা। এদের মধ্যে রয়েছে রামঘুঘু, ধূসর বটের, হলদে খঞ্চনা, গাঙচিল, চখাচখি, বদর কবুতার সহ অসংখ্য বালিহাঁস। নাম না জানা নানা বর্ণের এই পাখির কল-কাকলিতে মুখরিত থাকে ওইসব চর। যেন এক নৈসর্গিক পরিবেশ।
দিগন্তজোড়া আকাশ আর সমুদ্রের নীল জলরাশি আছড়ে পড়ছে কিনারায়। একই সাথে সাদা গাঙচিলের দল এদিক-ওদিক উড়ে যাচ্ছে। আর আগত পর্যটকরা উপভোগ করছেন পাখির ওড়াউড়ি। অবাধ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দল বেঁধে পানিতে ভেসে চলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দিও করছেন অনেকে। আবার দর্শনার্থীরা কাছে যেতেই ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির শব্দ করে এসব পাখি উড়ে যায় আকাশে।
পর্যটকরা জানান, সামাজিক সংগঠন ও সরকারের পক্ষ থেকে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল সৃষ্টিতে পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় আরও বেশি পাখির আগমন ঘটবে। একই সঙ্গে এলাকাটি সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠবে।
পরিবেশবীদের মতে, এসব পাখি শীত প্রধান অঞ্চল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কয়েক মাসের অতিথি হয়ে এ দেশে আসে। এরা মূলত বেশিরভাগই উপক‚লীয় দ্বীপ এবং চরাঞ্চলগুলোতে আশ্রয় নেয়। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পাখিরা ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন এবং মাটিকে উর্বর করে তোলাসহ জলজ পরিবেশকে সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। কিন্তু আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারিদের ফাঁদে পড়ে এদের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
ট্যুরিস্ট বোড মালিক সমিতির সভাপতি মো.জনি আলমগীর বলেন, বর্তমানে সাগরে মাঝে জেগে ওঠা চরগুলো এখন অতিথি পাখির অভয়ারন্য। রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখি দেখে আগত পর্যটকারও মুগ্ধ হচ্ছে। তবে শীত মৌসুমের শুরুর দিকে এসব পাখি ওইসব চরগুলোতে আশ্রয় নেয় বলে তিনি জানান।
এনিমেল লাভার অব কলাপাড়া শাখার টিম লিডার মো.রাকায়েত আহসান জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন শীত প্রধান দেশ থেকে অতিথি পাখিরা এসেছে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত অতিথি পাখি রক্ষায় এগিয়ে আসা। আর এসব পাখির বাসস্থান রক্ষা করা। তারা অল্প কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছে। কোন ভাবেই তাদেরকে আহার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর আমরা দেখতে পাই বিষটোপ ও ইয়ারগান সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অতিথি পাখি নিধন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বে-আইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচা-কেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে বলে জানা গেছে।
উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,বৃহস্পতিবার ২৮ নভেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ সংবাদ



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us

(সম্পাদক)
কাজী আবু তাহের মোহাম্মদ নাছির
সহ সম্পাদক- কাজী আশিকুর রহমান আশিক

উপদেষ্টা-মো: মোরর্শেদুল ইসলাম (মুক্তি)
বার্তা সম্পাদক-খন্দকার সোহাগ হাছান
সহ বার্তা সম্পাদক-কামাল হোসেন খান
সহ বার্তা সম্পাদক-কাজী আতিকুর রহমান আতিক

প্রধান কার্যালয়: গ-১০৩/২ মধ্যবাড্ডা প্রগতি স্বরণী বাড্ডা ঢাকা-১২১২|

Phone: +8801714043198, Email: hbnews24@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © HBnews24.com

Ads Blocker Image Powered by Code Help Pro

Ads Blocker Detected!!!

We have detected that you are using extensions to block ads. Please support us by disabling these ads blocker.

Powered By
100% Free SEO Tools - Tool Kits PRO