৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়নের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই রক্তের সাথে যারা বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করবে না। সারাদেশ এখন জেগে উঠেছে। তারা বলে দিয়েছে— ‘আমরা পুরোনো বন্দোবস্তে আর নাই, বস্তাপচা রাজনীতি আর ফিরিয়ে আনতে চাই না, নতুন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির উত্থান চাই বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।এ সময় তিনি বলেন,ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির দাবি করাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-যুবসমাজ যে আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিল, সেটি ছিল ন্যায্য ও সাধারণ একটি দাবি।জামায়াত আমির বলেন, আমরা জাতিকে আর কোনো মিথ্যা আশ্বাস দেবো না। কিন্তু একটা কথা আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী রেখে বলবো— বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জত; এই তিনটার হবো ইনশাআল্লাহ আমরা পাহারাদার। এদেশের মালিক হবো না, জনগণের সেবক হবো। আর প্রতি বছর জনপ্রতিনিধিরা তাদের পারিবারিক সদস্যদেরসহ জাতির সামনে তাদের সম্পদ বিবরণী পেশ করতে বাধ্য থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। জনগণ চাঁদাবাজদেরকে লাল কার্ড দেখাবে। জনগণ মামলাবাজদেরকে লাল কার্ড দেখাবে। জনগণ দখলদারদেরকে লাল কার্ড দেখাবে। জনগণ আধিপত্যবাদের গোলামদেরকে লাল কার্ড দেখাবে।
সংস্কার ও ন্যায়বিচারের দাবি। কিন্তু অতীতের মতোই ফ্যাসিবাদী কায়দায় সেই আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার পর সারাদেশ জ্বলে ওঠে। এর পরদিন ১৬ জুলাই উত্তরবঙ্গে শহীদ আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দেওয়া আত্মত্যাগ জাতিকে নাড়া দেয়।
আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তিনটি গুলি সে বুকে নিয়েছে, একটিও পিঠে নেয়নি। এই আত্মত্যাগই আমাদের অনুপ্রেরণা।
৫ আগস্টকে ‘জাহিলিয়াত থেকে মুক্তির দিন’ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দুঃখজনকভাবে যারা দীর্ঘদিন মজলুম ছিল, তাদেরই একটি অংশ রাতারাতি জালিমে পরিণত হয়েছে। ৬ আগস্টের পর থেকেই চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য শুরু হয়েছে।এমনকি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই জন্য তো আমাদের সন্তানরা রক্ত দেয়নি। পুরোনো চাঁদাবাজের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজ, পুরোনো দখলবাজের জায়গায় নতুন দখলবাজ, এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি।
তিনি বলেন, যুবসমাজ কখনো বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজ ও সম্মান। বেকার ভাতার কথা বলে যুবসমাজকে অপমান করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভালো কাজ শুরু হয় নিজের ঘর থেকে। ৫৯ জন ভয়াবহ দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দিয়ে আপনারা দুর্নীতি দমন করবেন, এ কথা শুনলে জনগণ হাসবে।
প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশে অপরাধী যে-ই হোক, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থল কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। নতুন বাংলাদেশে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নারী ও কন্যাশিশুর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
যুব নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যুবকদের হাতেই তুলে দিতে চাই। আমরা পেছনের সিটে বসব আর ককপিটে বসবে তরুণরা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
ঢাকা,রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















