ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা, ভারতীয় মিডিয়া আগ্রাসন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দায়ের হওয়া মামলায় পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে ‘মার্চ টু ভারতীয় হাইকমিশন’ কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই ঐক্য।বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে এ মার্চ শুরু করা হয়। রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হওয়া এ মার্চকে হোসেন মার্কেটে আটকে দেয় পুলিশ।কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ডাকসু, জাকসুর একাধিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের মানুষ।পুলিশ বাধা দিলে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা এরপর সেখানেই অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
পুলিশি বাধার মুখে এক পথসভায় জুলাই ঐক্যর অন্যতম সংগঠক সাদিক আরমান বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আমাদের ভোটাধিকার হত্যা করা ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। ভারত নিজেদেরকে আমাদের প্রভু মনে করে। আমাদেরকে মনে করে, আমরা তাদের গোলাম। ভারতকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমার ন্যায্যতার সম্পর্ক চাই, গোলামির সম্পর্ক চাই না। আমরা সমতা ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরদিন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ওসমান হাদিকে দিন-দুপুরে গুলি করা হয়েছে। হাদিকে গুলি করা হয়েছে ঢাকায়, খুনিকে পাওয়া যায় ভারতে। এখান থেকে বোঝা যায়, হাদিকে গুলি করার জন্য কারা দায়ী।
জুলাই ঐক্যের সংগঠক এবি জুবায়ের বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় থেকে ভারতের প্রক্সিরা নতুন করে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে গণ-হত্যা চালানো সব খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত। সর্বশেষ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা জুলাইয়ের অস্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর আনন্দ-উল্লাস করে ভারতীয়রা। বাংলাদেশ ২.০-এ কোনো আধিপত্যবাদকে আমরা মেনে নেবো না।
জুলাই ঐক্যের এই কর্মসূচি থেকে ভারত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারকেও আলটিমেটাম দেওয়া হবে জানিয়ে পদযাত্রার আয়োজকরা বলছেন, এই সময়ের মধ্যে খুনিদের ফেরত না দিলে, পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য দিল্লি এবং এই সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরকে দায় দায়িত্ব নিতে হবে।
এবি জুবায়ের বলেন, ভারত এবং তার প্রক্সিরা চায় না বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষা হোক, দেশে নির্বাচন হোক। যার কারণে একের পর এক বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যাচ্ছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতাকে দেশ রক্ষার আন্দোলনে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, দলমত নির্বিশেষে সব পেশার ছাত্র-জনতাকে রাজপথে নেমে আসার।
ঢাকা,বুধবার ১৭ ডিসেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















