মানুষের জীবন ধারণের জন্য মৌলিক চাহিদার প্রায় সবগুলোই ভূমির কাছ থেকেই পাওয়া যায় বলেন; সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেছেন; মানব সভ্যতার সূচনা লগ্নেই মানুষের প্রথম এবং প্রধান চাহিদা বা প্রয়োজনের নাম হচ্ছে ভূমি। ভূমি নিয়ে বিরোধ বেশি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে কর্মকর্তাগণ ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তি করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। কালের পরিক্রমায় একসময়কার কাগুজে ভূমি মন্ত্রণালয় এখন ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল মন্ত্রণালয়ে রুপান্তরিত হয়েছে। আপনাদেরও তা মাথায় রেখে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং মাঠ পর্যায় বাস্তবায়নের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশে অনলাইনে শতভাগ ভূমিসেবা প্রদান করা হচ্ছে,তবে সেবাগ্রহিতারা সেভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভ্যস্থ হয়নি। সবার জন্য ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতে এ পর্যন্ত এক হাজারটি ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যেখান হতে তারা ডিজিটাল ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারবে।
আজ রাজধানীর ডেমরায় করিম জুট মিলস্ লিমিটেড এর সভাকক্ষে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত
(প্রশাসন,পুলিশ,বন ও রেলওয়ের) এবং জুডিসিয়াল সার্ভিস এর কর্মকর্তাগণের ‘১৪০ তম সার্ভে ও
সেটেলম্যান্ট প্রশিক্ষন কোর্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশিক্ষণ কোর্সের
আয়োজন করে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর। এবারের ৫২ দিনের এই প্রশিক্ষণে মোট ৫৫ জন
অংশগ্রহণ করেন;এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ১৩ জন,পুলিশ ক্যাডারের ৮ জন,বন ক্যাডারের ৪জন, রেলওয়ে ক্যাডারের ৬জন এবং জুডিসিয়াল সার্ভিসের ২৪ জন প্রশিক্ষনার্থী। পুরাতন ঐতিহ্যের ধারা অনুসারে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাগণ ক্যাম্পে তাঁবুতে অবস্থান করে থাকেন। প্রশিক্ষণার্থী
কর্মকর্তাগণ প্রতিদিন শ্রেণী কক্ষে আইন-কানুন বিষয়ক তাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ শেষে পরদিন মাঠে
ম্যাপ প্রণয়ন বিষয়ক ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণ করবেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, ভূমি প্রকৃতির অন্যতম অবদান হলেও এর ব্যবহার প্রাকৃতিক নয়। যুগে যুগে মানব সভ্যতার ও জ্ঞান-বিজ্ঞান বিবর্তনের সাথে সাথে ভূমি ব্যবহারেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য। ফলে সময়ে সময়ে এর রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ও সংস্কার সাধিত হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বে ভূমি, ভূমির ব্যবহার ও ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রায় প্রতিটি বিষয়ই এমন
ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত যে এর একটি থেকে আর একটি আলাদা করা কঠিন।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে সিনিয়র সচিব বলেন; এবারের প্রশিক্ষণে আইনকানুনের পাশাপাশি হাতে কলমে অটোমেশনের বিষয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ড্রোন ব্যবহার করা হবে ভূমি জরিপে। পরিক্ষামূলকভাবে ৫টি জেলার ৩২ উপজেলায় ডিজিটাল জরিপ কার্য চলমান রয়েছে। আগামী মাসে ডিজিটাল ভূমি জরিপ বিষয়ে কোরিয়ার সাথে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হওয়ার পরে সারাদেশে এ কাজ হাতে নেয়া হবে। ডিজিটাল জরিপ কার্য হলে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যয়ের সুচনা হবে।
তিনি আরো বলেন; রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এই প্রশিক্ষণে ৫ টি ভিন্ন সার্ভিস একসাথে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিভিন্ন সময়ে সার্ভিসে ভেদাভেদ দেখা দিয়েছে। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব পরে, সাধারণ জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। মনে রাখেতে হবে আমরা সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী,আমাদের প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা। রাষ্ট্রের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের জন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। আগামীর নতুন বাংলাদেশ বির্নিমান আপনাদের হাতেই এই বিশ্বাস ধারণ করতে হবে।
এটি একটি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, যা দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। কোর্স সম্পন্নকারীরা মাঠ পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে
অবদান রাখবে। এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি প্রশাসন ক্যাডারদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে । এছাড়া একটি সার্ভে এন্ড সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণ একাডেমি করার প্রাথমিক কাজ চলমান রয়েছে। একাডেমি হলে সারা বছর এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সিনিয়র সচিব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) ও কোর্স পরিচালক মো: মোমিনুর রশীদ। সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড এ জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১)মো: সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভূমি রেকর্ড এ জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো: কামরুল আরিফ।
ঢাকা,রোববার ২১ সেপ্টেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















