মাধবদী পৌরসভার অধীনস্থ টাটাপাড়া মৌজার ১৫টি সি এস আমলের জমির ২১১.২০ শতাংশ ভুমি বেআইনিভাবে সি এন্ড বি কোম্পানী (বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ) তথাকথিত অধিগ্রহনের নামে ৭৫ বৎসর যাবত ভুল খতিয়ান ও ভুল নক্সা মূলে কাগুজে মালিক হিসাবে থাকিয়াছে যদিও জমির প্রকৃত মালিকগন সর্ব সময়ে ভোগ দখলকার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। ইদানিংকালে সড়ক ও জপপথ বিভাগ প্রকৃত মালিকদেরকে তাহাদের বাড়িঘর, দোকান, ফ্যাক্টরি, গোদামঘর, স্কুল ও খেলার মাঠ হইতে উচ্ছেদ করিয়া রাস্তা প্রসস্থ করিতে চাহিলে প্রকৃত মালিকগন সম্মিলিতভাবে মহামান্য হাইকোর্টে আইনের আশ্রয় নেয়। মহামান্য হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার জন্য আদেশ প্রদান করেন অর্থাৎ সি এন্ড বি তথা বাংলাদেশ সরকার এখন থেকে রিট আবেদনকারী ৬১ জনকে তাহাদের ২১১.২০ শতাংশ জমির স্হাপনা হইতে উচ্ছেদ করিতে পারিবে না এবং মহামান্য হাইকোর্ট সি এন্ড বি সহ অন্যান্য বিবাদীদের উপর রুল জারি করেন যে রিট পিটিসনের আবেদনকারীগন উক্ত ২১১.২০ শতাংশ জমির লিগ্যাল মালিক কেন হইবে না তাহার কারন দর্শাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ৭৫ বৎসর আগে অর্থাৎ ১৯৫০ সালে যখন তৎকালীন সরকার মাধবদী-নরসিংদী সড়ক নির্মানকালে মাধবদীর অন্তর্গত টাটাপাড়া মৌজার অন্তর্গত পূর্ব পাশের জমিগুলি হইতে ১৫টি জমির (সি এস দাগ নং ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৬২, ৬৩, ৯৫, ৯৬, ৯৭, ও৯৮) কিয়দাংশ সর্ব মোট ১৭০.৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহন করে এবং তাহার উপরে সড়ক নির্মান করে যাহা এখন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হিসাবে পরিচিত। নিয়ম অনুযায়ী, অধিগ্রহনের তথ্য গেজেট আকারে প্রকাশ করিতে হয় এবং সেই নিয়ম অনুসারে ৫ই এপ্রিল, ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত গেজেটে টাটাপাড়া মৌজার ১৫টি জমি হইতে ১৭০.৮০ শতাংশ প্রকৃত অধিগ্রহনের স্থলে ভুলবশত ২৯৭.০ শতাংশ অধিগ্রহন সি এন্ড বি কোম্পানি এর পক্ষে দেখানো হয়েছে যাহা প্রকৃত অধিগ্রহনের চেয়ে অনেক বেশী। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হইল যে এস এ এবং আর এস রেকর্ড ও এস এ এবং আর এস নক্সায় সি এন্ড বি কোম্পানীর নামে ১৭০.৮০ শতাংশ
প্রকৃত অধিগ্রহনের স্থলে ৩৮২.০ শতাংশ অধিগ্রহন হিসাবে প্রকাশিত হয়। এই প্রকার ভুল প্রকাশনার ফলে রিট আবেদনকারীদের ২১১.২০ শতাংশ অধিগ্রহন বহির্ভূত জমি বেআইনিভাবে সি এন্ড বি এর নামে রেকর্ড আকারে চলে যায় এবং সি এন্ড বি উক্ত ২১১.২০ শতাংশ জমির লিগ্যাল মালিক হিসাবে থাকে। এখানে উল্লখ্য যে, উক্ত অধিগ্রহন বহির্ভূত ২১১.২০ শতাংশ জমিতে রিট আবেদনকারীগনের স্থাপনা যথা বাড়িঘর, দোকানপাট, ব্যবসা, ফ্যাক্টরি, গোদামঘর, টাটাপাড়া প্রাইমারী স্কুল ও খেলার মাঠ ইত্যাদি রহিয়াছে এবং তাহারা সতভাগ ভোগদখলকার হিসাবে নিয়োজিত থাকিলেও ভুল খতিয়ান ও ভুল নক্সার কারনে তাহারা উক্ত ২১১.২০ শতাংশ জমির লিগ্যাল মালিকানা দাবী করিতে পারিত না। কিন্তু ভূভাবে প্রস্তুতকৃত কাগজপত্র যথা এস এ খতিয়ান ২, আর এস খতিয়ান নং ২, টাটাপাড়ার এস এ নক্সা ও টাটাপাড়ার আর এস নক্সা স্পষ্টতই প্রমান করে যে সি এন্ড বি কোম্পানী, টাটাপাড়া মৌজার ৩৮২.০০ শতাংশ জমির মালিক যাহার মধ্যে আবেদনকারীদের অধিগ্রহন বহির্ভুত ২১১.২০ শতাংশ জমি রহিয়াছে। এই প্রকার ভুলের কারনে, প্রকৃত মালিকগন (৬১ জন রিট আবেদনকারীগণ) ২১১.২০ শতাংশ জমির কোন অংশেরই খাজনা দেওয়া, জমির খারিজ করা, বিক্রি করা এমনকি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোন প্রকার প্ল্যান পাশ করাতে পারছিল না। তার উপরে ছিল সি এন্ড বি/সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক উচ্ছেদের ভয়। ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, উক্ত ২১১.২০ শতাংশ জমি হইতে বর্তমানে ভোগ দখলকৃত মালিকগনকে অর্থাৎ ৬১ জন রিট আবেদনকারী দেরকে উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ প্রদান করে ও লাল কালি দিয়ে দাগ দিয়ে উচ্ছেদের সীমানা নির্ধারন করে।
এমতাবস্থায়, উচ্ছেদের সীমানার ভিতরে বাস করা ৬১ জন ভুক্তভোগী টাটাপাড়াবাসি একত্রিত হয়ে টাটাপাড়া নিবাসি ড. রফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ভুক্তভোগীগন মহামান্য হাই কোর্টে তাহাদের ভোগ দখলরত এবং অধিগ্রহন বহির্ভুত উক্ত ২১১.২০ শতাংশ জম্মি লিগ্যাল মালিকানা দাবি করেন ও সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উচ্ছদের হাত হইতে পরিত্রান প্রার্থনা করেন। মহামান্য হাইকোর্টে মাননীয় বিচারপতি জনাব আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি কে এম রাসেদুজ্জামান রাজা এর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিসন বেঞ্চে ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সালে, রিট পিটিসন নং ১৫৬৬১/২০২৪ বিবেচিত হয় এবং মোকদ্দমাটির রায় প্রদান করেন যাহাতে মাননীয় বিচারকগন স্থিতাবস্থা (Status Quo) জারী করেন ও রুল ঘোষনা করেন। বিবাদী হিসাবে ভূমি মন্ত্রনালয়, সড়ক, পরিবহন ও জনপথ মন্ত্রনালয়, নরসিংদী জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নরসিংদী, সহকারী কমিসনার (ভূমি)
নরসিংদী, প্রধান প্রকৌশলী সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কার্য নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপথ বিভাগ এদেরকে কারন দর্শানোর জন্য রুল জারী করা হয়েছে কেন রিট পিটিসনের ৬১ জন বাদীকে তাদের ভোগ দখকৃত ২১১.২০ শতাংশ জমিতে লিগ্যাল অধিকার দেওয়া হইবে না। তাছাড়া স্থিতাবস্থা জারীর মাধ্যমে রিট পিটিসনটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাদীদেরকে তাহাদের স্থাপনা হইতে উচ্ছেদ করা যাবে না। উক্ত রিট পিটিসনটি বিজ্ঞ এডভোকেট জনাব মুহিবুল্লাহ তানবির পরিচালনা করেন।
ড. রফিকুল ইসলাম খান সকল বাদীদের পক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে রিট পিটিসন খানা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তথা বাংলাদেশ সরকারের বিরূদ্ধে ইহা একটি যুগান্তকারী রায় যাহা আমাদের পূর্ব পুরুষগন এই অন্যায় কর্মটি সহ্য করেছেন কিন্তু উত্তরনের পথ খুজে পান নাই। ড. রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন যে, সরকারী ভুলের জন্য আমাদের পূর্ব পুরুষ ও পরবর্তীতে আমাদেরকে ৭৫ বৎসর যাবৎ এই দুরবস্থা সহ্য করার পরে প্রচুর সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করে সুবিচার পাইতে মহামান্য হাইকোর্টের সরনাপন্ন হতে হয়েছে। ইহা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক সংগঠিত আমাদের প্রতি বড় ধরনের একটি অন্যায়। এই ধরনের সরকারী ভূলের মাধ্যমে সংঘঠিত অন্যায় কর্মগুলি সয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিকারের আওতায় নিয়ে আসা কল্যানকামী রাষ্ট্র হিসাবে সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
ভুক্তভোগী আবদুর রশিদ ৬১ জন রিট আবেদনকারীর একজন। তিনি বলেন যে আমাদের জমি হইতে ২২.১০ শতাংশ জমি রাস্তার জন্য প্রকৃত অধিগ্রহন করিয়া তদস্থলে ৫০.০০ (পঞ্চাশ) শতাংশ জমি ভূল্ভাবে সি এন্ড বি কোম্পানীর নামে অধিগ্রহন দেখানো হয়েছে। এই ভূলের প্রতিকার পাওয়ার কোন উপায় আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে জানা ছিল না। এখন প্রচুর অর্থ ও সময় ব্যয় হইলেও আমরা মহামান্য হাই কোর্টের নিকট হইতে প্রতিকার পাওয়ার আশা রাখি।
অপর ভূক্তভোগী জনাব আকবর আলি ভুইয়া বলেন যে এতদিন একটা ভয় ছিল যে সি এন্ড বি/সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তা প্রসস্থের নামে আমাদের জমি ইচ্ছামত কোন ক্ষতিপূরন বাদেই দখলে নিতে পারে। এখন মহামান্য হাই কোর্টের রায়ের ফলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেই অন্যায় কাজটি করতে পারবে না। তাছাড়া আমরা প্রকৃত জমির মালিকগন মহামান্য হাই কোর্টের মাধ্যমে আমাদের অধিগ্রহন বহির্ভুত জমির লিগ্যাল মালিক হইতে পারব বলে আশা করছি। সেই সংগে আমাদের ৭৫ বৎসরের দুর্দশার পরিসমাপ্তি ঘটবে।
মোঃ নজরুলইসলাম,মাধবদী(নরসিংদী)প্রতিনিধি ঃ
নরসিংদী,সোমবার ০৩ ফেব্রুয়ারি এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















