সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এজন্য নির্বাচন থেমে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। ‘দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি লুৎফর রহমান। ফখরুল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাদের ভূমিকার জন্য সাধুবাদ জানানোন পাশাপাশি বিপ্লবে সম্পৃক্ত থেকেছে রাজনৈতিক দলগুলো। যেখানে বিএনপিসহ সবাই ১৫ বছর ধরে লড়াই করেছে।’খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে প্রেস কনফারেন্সে ভিশন ২০৩০ ঘোষণার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেখানে ক্ষমতার ভারসম্য আনার কথা বলা হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল তারেক রহমানের পক্ষ থেকে। সেখানেও এক ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না বলা হয়েছিল।’
‘সুতরাং সংস্কার কোনো নতুন ধারণা না। কেউ যদি দাবি করে তারা এই ধারণা নিয়ে এসেছে তাহলে ভুল করবে,’ যোগ করেন ফখরুল।
সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কিন্তু সংস্কারের কথা বলে নির্বাচন বন্ধ থাকতে পারে না। দিনের পর দিন অনির্বাচিত সরকারের কাছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া যায় না। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না। আল্লাহ চাহেতো আবারও বিএনপি ক্ষমতায় যাবে।’ফখরুল আরও বলেন, ‘সংস্কার করেন কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু দেশের স্থিরতা নিয়ে যে সমস্য তৈরি হয়েছে, সে সমস্যা কেটে যাবে যদি নির্বাচন দেয়া হয়। বিএনপি সংস্কার চায়, কিন্তু এটাও চায় বেশিদিন অনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।’
সরকারের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অনেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন। জনগণের সমস্য না খুঁজে অনেকে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।’
সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যেন অস্থির না হই, আস্থা না হারাই সরকারের প্রতি। ড. ইউনূস সরকার অতি দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনের প্রস্তাবনা দিবেন, সেটাই প্রত্যাশা।’ সভায় ভোটারের বয়স নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। এভাবে না বলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টা আনা উচিত ছিল, এটা ভালো হতো। তাহলে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না। মানুষের মনে এখন বেশি করে আশঙ্কা তৈরি হবে, এটা করতে গিয়ে আরো সময় যাবে, কালক্ষেপণ হবে। মানুষের মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে, আমার না। তাদের মনে ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে, কেন যেন এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে। ’
ঢাকা,শনিবার ২৮ ডিসেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















