দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুভ সূচনা করলো স্বাগতিকরা। তবে এই ম্যাচটি কেবল মেক্সিকোর জয় নয়, বরং মনে রাখা হবে ২ গোল আর ৩টি লাল কার্ডের এক মহানাটকীয় ম্যাচ হিসেবে।ম্যাচের শুরু থেকেই বাফানা বাফানাদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে হাভিয়ের আগুয়েরের শিষ্যরা। ম্যাচ শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগ তৈরি করে তারা, যেখানে রাউল জিমেনেজের জোরালো শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকান গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।
তবে স্বাগতিক দর্শকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ম্যাচের ঠিক ৯ম মিনিটে মাঝমাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোলের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন এরিক লিরা, আর সেই বল ধরে নিখুঁত এক শটে উইলিয়ামসের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে উল্লাসে ভাসান হুলিয়ান কিনিয়োনেস।প্রথমার্ধেই ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো, তবে জিমেনেজের হেডার রুখে দিয়ে এবং কিনিয়োনেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতেই দেখা যায় নতুন মোড়। গোল লক্ষ্য করে ছুটে যাওয়া জিমেনেজকে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে। রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠছাড়া করলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের বয়স যখন ৬৭ মিনিট, তখন মাঠের আবহ আরও রঙিন করে তুলতে বদলি হিসেবে নামানো হয় মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি গিলবার্তো মোরাকে। আর তার মাঠে নামার ৬০ সেকেন্ডের মাথায় মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করা দ্বিতীয় গোলটি আসে। প্রথম গোলের নায়ক কুইনোনেসের বাড়ানো বল ধরে রবার্তো আলভারাডো এক চতুর ক্রস বাড়ান, যা দারুণ হেডে জালে জড়ান মেক্সিকোর নাম্বার নাইন রাউল জিমেনেজ।ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম রূপ নেয় এক যুদ্ধক্ষেত্রে। মেক্সিকোর আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার বদলি খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ানে। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল; ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে মেক্সিকোর সেন্টার-ব্যাক সিজার মন্তেসও মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিশন দারুণভাবে শুরু করলো মেক্সিকো।
ক্রীড়া ডেস্ক,শুক্রবার ১২ জুন এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















