নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কবরস্থানের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের তালপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আবুল কাশেহম নামে এক ব্যক্তি চার শতক জমি কবরস্থানের জন্য দান করেন, যাতে এলাকাবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের দাফন কার্য সম্পন্ন করা যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই জমির মধ্যে প্রায় দুই শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে মাহফুজ মন্ডল, রফিকুল ইসলাম মাস্টার প্যানো ও জাহিদ নামে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।
এছাড়া কবরস্থানের ভেতরেই বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং গোসলের নোংরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
আবুল কাশেমের মেয়ে মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার বাবা কবরস্থানের জন্য জমি দান করেছিলেন। কিন্তু এখন জোরপূর্বক সেই জমি দখল করা হয়েছে। জমি ছাড়তে বললে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।”
শরীফ হাসান মুরাদ বলেন,আমার নানা আবুল কাশেম ৪:০০ শতক জমি করর স্থানের জন্য দান করেন। রফিকুল ইসলাম ওরফে প্যানা মাস্টার এর ছেলে ভূমিদস্যু মাহফুজার রহমান মন্ডল গং কবরস্থানের ৪:০০ শতকের মধ্যে ১.৭৫ শতক জমি দখলপূর্বক বসবাসের জন্য বিল্ডিং বাড়ি নির্মান করেন। কবরস্থানের জমিতে টয়লেটের ৩টি হাউস তৈরি করে টয়লেটের পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য যা নিন্দনীয়। আমরা বলতে গেলে মামলার হুমকি দেন।
এমনকি আমার অফিসে সাংবাদিক পাঠিয়ে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানী করাচ্ছে তারা। কবরস্থানের
জমি উদ্ধারসহ হয়রানির বিচারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
স্থানীয় মো. স্বাধীন বলেন, “কবরস্থানটি এখন ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে। বাড়ির সব ময়লা ও পানির নিষ্কাশন কবরস্থানে ফেলা হচ্ছে। এতে জায়গাটির পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহাদ আলী বলেন, “কবরস্থানটি এখন আর কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নেই। এটি ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সমাধানে আসতে রাজি নন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত মাহফুজ মন্ডল। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মোঃ শাহজাহান সিরাজ কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) উপজেলা প্রতিনিধি,
নীলফামারী,শনিবার ১১ এপ্রিল এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম




















