অর্থনৈতিক ও কৃষি সম্ভাবনাময় উত্তরের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। ইতিহাস ও কৃষি ঐতিহ্যের অপার লিলাভুমি এ অঞ্চলটি। উপজেলাটি রংপুর বিভাগের একটি কৃষি ভান্ডার হিসাবে পরিচিত।
১৯৮৪ সালে উপজেলাটি আত্নপ্রকাশ করে। উপজেলাটির জনসংখ্যা প্রায় সারে তিনলাখ। এ এলাকার অপার অর্থনৈতিক কৃষি সম্ভাবনা রয়েছে। যা দেশের উন্নয়নের চাকা ঘুড়াতে ব্যাপক ভুমিকা রেখেই চলছে কিন্তু দুভাগ্যজনকভাবে গত ৫৪ বছরে কাঙ্খিত কোন উন্নয়ন হয়নি।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু, আদা, হলুদ,ভুট্টা ও পাটচাষে বিখ্যাত। আগাম আলু এ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের দক্ষিনাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।কিশোরগঞ্জে রয়েছে ইতিহাস ঐতিহ্যের মুঘল আমলের দর্শনীয় স্থান ভিমের মায়ের চুলা, চাঁন খোসালের মসজিদ ও চাঁদ সওদাগরের ডিঙ্গি। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। অর্থনৈতিকভাবে মরিচ,পেয়াজ আদা ও শাকসবজির জন্য সুপরিচিত। দেশের রাজনৈতিক
অঙ্গনের মাঝেও রয়েছে এ এলাকার গৌরবগাঁথা ইতিহাস। এতো সম্ভাবনা থাকার পরেও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের একটি বৃহৎ জনগোষ্টি দীর্ঘদিন থেকে উন্নয়ন বঞ্চিত। স্কুল কলেজ রাস্তাঘাট মসজিদ মাদ্রাসাসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামো অনেকটাই জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল। বিশেষ করে উপজেলার আন্ত উপজেলা সড়কগুলো অবস্থা অত্যান্ত খারাপ। বেশিরভাগই ভাঙ্গাচোরা কাঁচা ও সংস্কার বিহীন। এতে করে অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও জরুরী সেবাদানে মারাত্নক ব্যাঘাত ঘটে চলেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও আধুনিকতা ও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনী এ উপজেলায়। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪০৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বিপরিতে পাঁকা রাস্তা রয়েছে মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার। এই পাঁকারাস্তাগুলো ৮ থেকে ৯ ফিট প্রস্থ্যের। বিপরীতমুখী দুটি ভ্যান পার হতে গেলে একটি ভ্যান দাড়িয়ে থেকে অন্যটিকে সাইড দিতে হয়। বিগত সরকারের সময় উন্নয়নের অনেক প্রতিশ্রতি ছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
কৃষি সম্ভাবনার এ উপজেলায় ৬৩.৭৭ হেক্টরের পরিত্যাক্ত সরকারী জলাশয় গুলো দখলমুক্ত করে খনন করা হলে এ বিশাল জলভুমি অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেঞ্জরা। কৃষি সমৃদ্ধ এ উপজেলায় প্রতিবছর আগাম আলু চাষ হয় প্রায় ৬ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে,আদা চাষ ২ হাজার হেক্টর, হলুদ ৮শ হেক্টর, মসলা জাতীয় ফসল ১২শ হেক্টর জমিতে। এসব ফসল দেশের অভ্যান্তরীর বাজারে সরবরাহ করা হয়। এ উপজেলায় ছোট বড় মিলে মোট ৩ টি নদী রয়েছে। এসব নদী থেকে জেলেরা দেশিও প্রজাতীর সুসাদু মাছ ও ঝিনুক আহরন করে প্রতিবছর প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় করে জেলেরা। ঝিনুক শিকারী বৈশাক চন্দ্র বলেন, নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে এর তেকে চুন তৈরী করে সেই চুন বাজারে বিক্রি করে পরিবারের ৭ সদস্যের ভরন পোষন করেও বছরে সঞ্চয় থাকে প্রায় এক লক্ষ টাকা।
উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আদা চাষী সাজু মিয়া বলেন, আমি এবার ৩ বিঘা জমিতে আদা চাষ করেছি। উৎপাদন ব্যায় বাদ দিয়ে ৩ বিঘা জমিতে আমার দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ হয়েছে। শুধু আদা চাষ করে কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা বছরে কয়েক কোটি টাকা আয় করে। এ উপজেলার যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভাল থাকলে কৃষি থেকে আরো বেশি আয় করা যেত।
নিতাই ইউনিয়নের আলুচাষী হেদায়েতুল্লাহ জানান, আমাদের উপজেলার জমিগুলো তিনফসলি হওয়ার কারনে কৃষকরা একই জমিতে প্রথমে ধান,তাঁরপর আগাম আলু এবং আলু উত্তোলনের পর ভুট্টা চাষ করে। ধান ও ভুট্টা মাড়াইয়ের সাথে সাথে বিক্রি করলেও আলু রাখার জন্য ভাল মানের হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর আলু চাষীদের উৎপাদিত আলুতে লোকসান গুনতে হয়। আমাদের কিশোরগঞ্জ উপজেলা অবহেলিত। এ উপজেলার উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি দরকার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন,কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষিতে এক রত্নভান্ডার যার প্রমান পাওয়া যায় এর বৈচিত্যময় ফসল আবাদে। এখানে বির্স্তীণ এলাকাজুড়ে যেমন রযেছে ধানের আবাদ যা কিশোরগঞ্জকে এনে দিয়েছে খাদ্য উৎপাদনে স্বযংসুম্পর্নতা, অন্যদিকে প্রতিবছর এখানে উৎপাদন হয় প্রায় দেড়লক্ষাধিক টন আলু। যা কিশোরগঞ্জের মানুষকে দিয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তি।এছাড়াও ভুট্টা,সরিষা,কলাসহ বিভিন্ন আবাদে শস্যেও নিবিড়তা পোঁছেছে ২৫০ ভাগে। এত বিপুল পরিমান ফসল আবাদের পরেও এ উপজেলায় নেই কোন কৃষিভিত্তিক শিল্প। রয়েছে মাত্র একটি হিমাগার, যেখানে উৎপাদিত আলুর মাত্র ৭ ভাগ সংরক্ষন করা যায়। এখানে বছরে ২ হাজার টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়। যা দেশের বিভিন্ন জেলাসহ দেশের বাইরে রপ্তানী হয়। নেই ভাল কোন যোগাযোগ ব্যাবস্থা । তাই এ উপজেলার প্রকৃত উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যাবস্থার আমুল পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিকল্পনামাফিক কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা দরকার।
মোঃ শাহজাহান সিরাজ কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) উপজেলা প্রতিনিধি,
নীলফামারী,শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারী এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















