ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেছেন;বাংলাদেশে ভূমি প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। প্রেক্ষাপটে “ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন” বা স্বয়ংক্রিয়ীকরণ একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ।
আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে Technohaven Co Ltd is the 'project management consultant for the Land Management Automation Project শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন; ভূমি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার হাতে নিয়েছে “ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন প্রকল্প”, যা ভূমি সেবাকে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ভূমি আমাদের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপ্রতুল জমি, জটিল ভূমি রেকর্ড এবং দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। এসব সমস্যা নিরসনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেন; সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ।
তিনি আরো বলেন; ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কারে এক মাইলফলক। এটি শুধু নাগরিক সেবা সহজ করেনি, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে “উন্নত বাংলাদেশ” গঠনের স্বপ্ন আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ভূমি খাত সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনজীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। ভূমি সংক্রান্ত সেবাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা, কাগজপত্রের অগোছালো অবস্থা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতির কারণে জনগণের কাছে ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বা ডিজিটাল রূপান্তর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করেছে।
সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদ বলেন; ভূমি প্রশাসন একটি দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভূমি ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, হস্তান্তর, জরিপ, রেকর্ড সংশোধন, আইন প্রয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এসব কর্মকাণ্ডে সঠিক দিকনির্দেশনা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এই প্রেক্ষাপটে ভূমি ক্ষেত্রে পরামর্শকদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া হ্যাকিং রোধে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ
থাকুন।
পরে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি এর মূল কাঠামো সেকশন-১ ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব বলেন; রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমের দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও ফলাফলভিত্তিক পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম নিরীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং উন্নয়নের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মো: শরিফুল ইসলাম;মো: আব্দুর রউফ এনডিসি;সায়মা ইউনুস, এনডিসি; মো: এমদাদুল হক চৌধুরী;মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ ঊর্ব্ধতন কর্মকর্তাববৃন্দ।
ঢাকা,বৃহস্পতিবার ২৩ অক্টোবর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















