গত ০৩/০৯/২০২৫ ইং তারিখ ঝিনাইদহ সদর থানাধীন মহারাজপুর ইউনিয়নে কেশবপুর গ্রামের তোয়াজ উদ্দিন শেখ (৫৫) এর ঘর থেকে গন্ধ বের হলে তার বাড়ির লোক-জন পুলিশকে সংবাদ দেয়। ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল অনুমান ৫.০০ ঘটিকার সময় ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে ভিকটিম তোয়াজ আলী এর দুই পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত মৃতদেহ তোষক দিয়ে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করে। ঐ সময় তার মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। তোয়াজ আলীর ব্যবহৃত বালিশ ও তোষকে রক্ত শুকনো কালো দাগ দেখা যায়। এছাড়া ভিকটিমের ঘরের দেওয়ালে “কে মারার কারন সে মুহাম্মাদ (সঃ) কে গালি দিসে তাঁর নামে খারাপ কথা বলেছে। ? আল্লাহু আকবার,” কথা লেখা ছিল। ইং ০১/০৯/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার পর হতে ইং ০৩/০৯/২০২৫ তারিখ দুপুর অনুমান ৩.৩০ ঘটিকা পূর্বে যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা আসামী বা আসামীরা মৃত ভিকটিম তোয়াজ আলীকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ঘরের দরজায় এবং মূল গেটের বাইরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছিল। হত্যাকান্ডের বিষয়ে তার ভাই মোঃ আকাচ্চ আলী বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায়
একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বদেওয়া হয়।
উক্ত হত্যার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হলে এলাকায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সুপার, ঝিনাইদহ মহোদয় তাৎক্ষণিক হত্যার মূল রহস্য উৎঘাটন ও সংশ্লিষ্ট আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, ঝিনাইদহের টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), ঝিনাইদহ হত্যা মামলার ইনভেস্টিগেটিং অফিসার, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও নির্দেশনা প্রদান করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় হত্যার ঘটনা সংক্রান্তে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ সদর থানার ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, ডিবি ঝিনাইদহের একটি চৌকস টিম গতকাল
২২/০৯/২৫ খ্রিঃ তারিখ দুপুর ১২.৩০ ঘটিকার সময় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের মূল আসামী তানভীর হাসান (১৮), পিতা- মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাং- কামারগন্যা, থানা- কোতয়ালী, জেলা- যশোর’কে গ্রেফতার করে এবং তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত একটি পাথরের শীল ও হত্যাকান্ডের ঘটনার মোটিভ অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য ভিকটিমের ঘরের দেওয়ালে “কে মারার কারন সে মুহাম্মাদ (সঃ) কে গালি দিসে তাঁর নামে খারাপ কথা বলেছে। ? আল্লাহু আকবার,” লেখায় ব্যবহৃত মার্কার পেন উদ্ধার করা হয়। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ২০২২ সালে মৃত তোয়াজ উদ্দিন এর সাথে তার পরিচয় হয়। মৃত তোয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী, সন্তান না থাকায় তাদের মধ্যে সমকামিতার সম্পর্ক তৈরি হয়। সে বিভিন্ন সময় ভিকটিমের ঢাকার বাসা ও গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করতো। গত ইং ০১/০৯/২০২৫ তারিখ মৃত ভিকটিম তোয়াজ উদ্দিন ও আসামী তানভীর হাসান কেশবপুর গ্রামে ভিকটিমের নিজ বাড়িতে আসে। ঐ রাত্রে মৃত ভিকটিম তোয়াজ উদ্দিন জোরপূর্বক আসামী তানভীর হাসানের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক (সমকামিতা) স্থাপন করে বিছানায় শুয়ে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামী তানভীর পাশে থাকা শীল পাটা এর শীল পাথর দ্বারা ভিকটিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে, পা বেঁধে রাখে এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে ঘরে বাহির
থেকে তালাবদ্ধ করে চাবি পাশের পুকুরে ফেলে আসামী পালিয়ে যায়। যশোর থেকে ভিকটিমের বিকাশ হতে ৪,৭৭০/- টাকা উত্তোলন করে মোবাইল ফোনটি ভৈরব নদীতে ফেলে দেয় মর্মেগ্রেফতারকৃত আসামী তানভীর জানায়। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পাপন চৌধুরী ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ,মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















